দেশের চা শিল্পের উৎপাদন বাড়ানো, উৎপাদন ব্যয় কমানো, রপ্তানির নতুন বাজার তৈরি এবং আর্থিক সংকটে থাকা বাগানগুলোর সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ, সুদের হার কমানো, পুরোনো চা গাছের পরিবর্তে নতুন গাছ রোপণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনাবাদি জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চায়ের মান উন্নয়ন, বিশেষায়িত চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় ব্র্যান্ডের অবস্থান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চা শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক ও টেকসই করতে খাতভিত্তিক উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন এবং প্রতিটি বাগানের সমস্যা ও সম্ভাবনা অনুযায়ী পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
গত মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে চা শিল্পের উন্নয়নে গঠিত মনিটরিং ও পরামর্শক কমিটির প্রথম সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কমিটির প্রথম সভায় চা খাতের উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তিনি জানান, দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশ চা বর্তমানে দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। প্রথমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ এবং পরে রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি চায়ের গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদেশি বাজার খুঁজে বের করা ও রপ্তানি বাড়াতে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, কনস্যুলেট এবং রপ্তানিসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে সবুজ চা, অর্থোডক্স চা, সাদা চা ও সিটিসি পদ্ধতিতে তৈরি কালো চা উৎপাদিত হচ্ছে। বিভিন্ন কোম্পানি চায়ের মিশ্রণে নতুন স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য তৈরি করে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
চায়ের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন পদ্ধতি, চায়ের মিশ্রণ তৈরি এবং রপ্তানি উন্নয়নের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
পুরোনো চা বাগান আধুনিকায়নে গুরুত্ব, কমিটির সভার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৭২টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানের মোট জমির পরিমাণ ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৯৬ একর। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯১ একর জমি চাষযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত। নার্সারিসহ ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। এ ছাড়া ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৩৭ একর জমি অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতে চা চাষ সম্প্রসারণের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে ১৬ হাজার ৯২৮ একর জমি।
তবে চা চাষের বাইরে থাকা জমিতে বিকল্প বিনিয়োগের আগে জমির বর্তমান ব্যবহার, বাগান পরিচালনার প্রয়োজন এবং পরিবেশগত প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে চা উৎপাদিত হয়েছে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি ২৩ হাজার কেজি। দেশে প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৫৫২ কেজি।
উৎপাদন আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও চা শিল্পের অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পুরোনো গাছ ও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়। কোনো কোনো বাগানে চা গাছের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছর কিংবা তারও বেশি। পর্যাপ্ত নতুন গাছ রোপণ করতে না পারা, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি এবং উৎপাদন উপকরণের বাড়তি খরচের কারণে বাগানগুলোর ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি ভারত, শ্রীলঙ্কা ও কেনিয়ার তুলনায় উৎপাদনশীলতার ঘাটতি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের চা উৎপাদকদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মতে, চা শিল্পের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি মনে করেন, শুধু ঋণের ওপর নির্ভর করে এ শিল্পের স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাগানগুলোকে এমনভাবে পরিচালনার উপযোগী করে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেদের আয় থেকে পরিচালন ব্যয় মেটাতে পারে এবং রাজস্ব, কর ও মূল্য সংযোজন করের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারে।
ঋণের চাপ কমাতে সুদ হ্রাস ও পুনঃতফসিলের প্রস্তাব, চা শিল্পের উন্নয়নে বড় বাধাগুলোর একটি হলো ঋণের বোঝা। কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, চা খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার ১৭৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১৩৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। বকেয়া ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৮২৬ কোটি ৯ লাখ টাকা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৫১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণ রয়েছে ২১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। পুনঃতফসিল করা ঋণের পরিমাণ ৫১৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এই আর্থিক চাপ কমিয়ে সম্ভাবনাময় বাগানগুলোর উৎপাদন ও বিনিয়োগ সচল রাখতে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে নতুন ঋণ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি চা উৎপাদন ও বিনিয়োগে সহায়তার জন্য ৬ শতাংশ সুদে একটি আবর্তক তহবিল গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান ১৮ হাজার কোটি টাকার আবর্তক পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি থেকে ক্ষুদ্র, কুটির, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের একটি প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ তহবিল থেকে ঋণগ্রহীতাদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ বার্ষিক সুদে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এটি কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন।
চা খাতের জন্য ৬ শতাংশ সুদের আবর্তক তহবিল গঠন এবং বিদ্যমান পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি থেকে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দুটি পৃথক উদ্যোগ। কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে কার্যকর হয়নি।
এ ছাড়া চা উৎপাদনে নেওয়া ঋণের সুদের হার বর্তমান ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশে আনার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ভুট্টাসহ কয়েকটি ফসলের জন্য প্রচলিত রেয়াতি সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
কৃষিঋণের আওতায় আনার উদ্যোগ, চা চাষকে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও কমিটির সভায় গুরুত্ব পেয়েছে। এ স্বীকৃতি মিললে চা উৎপাদকেরা কৃষি খাতের জন্য প্রযোজ্য রেয়াতি ঋণসুবিধা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। বাংলাদেশ চা বোর্ড এ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতে, চা খাতের প্রায় ৬০ শতাংশ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে চারা রোপণ, গাছের পরিচর্যা, ছাঁটাই ও পাতা সংগ্রহ। এসব কার্যক্রম মূলত কৃষিকাজের অন্তর্ভুক্ত। বাকি ৪০ শতাংশ কাজ শিল্পভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে চা চাষকে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আপত্তি রয়েছে। জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২-এ চা প্রক্রিয়াজাতকরণকে শিল্প কার্যক্রম হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে চা খাতের শ্রেণিবিন্যাস ও ঋণসুবিধা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা, চা বাগানের যেসব জমি চা চাষের উপযোগী নয়, সেগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি বাগানের বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় চা কোম্পানিগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় চা বাগানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি সামনে এসেছে।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া ভূমিভিত্তিক বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছে কমিটি। চা উৎপাদন এলাকা ও হাওর অঞ্চলের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
চা বাগানের মূল বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে বিকল্প বনায়ন, কৃষিকাজ এবং অন্যান্য আয়বর্ধক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে ক্লাস্টারভিত্তিক উদ্যোগ ও নেট মিটারিংয়ের মতো ব্যবস্থার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
রপ্তানি সম্প্রসারণে বিশেষায়িত চা ও ব্র্যান্ডিং দেশের চায়ের আন্তর্জাতিক বাজার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা দেখছে সরকার। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ১৬ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা রপ্তানি করেছে। একই সময়ে চা আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার কেজি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
দেশের চাহিদার প্রায় পুরোটাই স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হওয়ায় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে বিক্রির পরিসর সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে অর্থোডক্স ও বিশেষায়িত চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি, ব্র্যান্ডিং ও প্যাকেজিংয়ের উন্নয়ন, কার্যকর বিপণন এবং আন্তর্জাতিক মানসনদ অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উচ্চমূল্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন ধরনের চা উৎপাদনে বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিটি। পাশাপাশি রেইনফরেস্ট অ্যালায়েন্সের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ অর্জনের উদ্যোগ রপ্তানি সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে।
দেশীয় উৎপাদকদের নতুন স্বাদ ও বৈশিষ্ট্যের চা তৈরির পাশাপাশি নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলার উদ্যোগও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রচলিত চায়ের বাইরে বিশেষায়িত পণ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাগানভিত্তিক পরিকল্পনায় সমন্বিত বাস্তবায়নের তাগিদ চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নে সরকারি সহায়তা ও ঋণসুবিধার পাশাপাশি বাগানগুলোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি। প্রতিটি বাগানের সমস্যা, উৎপাদন পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা বিবেচনায় পৃথক কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো যথাযথ অনুমোদন, অর্থায়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের আওতায় এলে চা বাগানের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বিকল্প আয়ের উৎস তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে বিশেষায়িত চায়ের উৎপাদন, উন্নত ব্র্যান্ডিং ও নতুন বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চায়ের অবস্থান শক্তিশালী করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
The post চা খাতের উন্নয়নে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’ appeared first on ভোরের চেতনা.
