Published on
:
1 min read
আবাহন দত্ত
সুকুমার রায়ের ছড়া মনে পড়ছে। ‘ঠোঙাভরা বাদামভাজা খাচ্ছে কিন্তু গিলছে না৷’ মনে পড়ছে ‘ভাইবসেশন’ শুনে। ‘ভাইব’ আর ‘রিসেশন’ মিলে ‘ভাইবসেশন’। পোর্টম্যান্টিউ, বাংলায় জোড়কলম শব্দ। ‘ভাইব’ মানে মেজাজ আর ‘রিসেশন’ মানে আর্থিক মন্দা, অর্থাৎ ‘ভাইবসেশন’ হলো সেই সময় যখন মেজাজটা আর্থিক মন্দার মতো, কিন্তু প্রকৃতার্থে মন্দা তো নয়ই, বরং অর্থনীতির চাকা গড়গড়িয়েই চলছে।
যেমন? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জো বাইডেনের শাসনামল প্রকৃষ্টতম উদাহরণ। মুদ্রাস্ফীতি ও মন্দাভীতি বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের বোঝাপড়ার নাগাল পেতে ২০২২ সালে পরিভাষাটি তৈরি করেন লেখক কাইলা স্ক্যানলন। সাম্প্রতিক নমুনা ব্রাজ়িল, যার উত্তাপ সামলে উঠতে পারছেন না বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুলা। অতিমারীর পরে অধিকাংশ দেশ যখন হিমসিম খেয়েছে, তখন লুলার ব্রাজ়িল শক্তপোক্ত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ঘটিয়ে ফেলেছে, অথচ নাগরিকেরা এতই অখুশি যে, চলতি ভোটে লুলাকে পরাজয়ের দোরগোড়ায় এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।
প্রশ্ন হলো, এই স্ববিরোধের রহস্য কী? অর্থনীতি ভালো হচ্ছে, তবু জনতা তার আঁচ পাচ্ছে না কেন? অথবা, উল্টো আঁচে ঝলসে যাওয়ার ভ্রম হচ্ছে কেন? কারণ, জনতা অর্থনীতির হিসেব জানে না, ফল জানে। বাইডেনের আমলে বাৎসরিক ভাবে ২.২-২.৫% জিডিপি বেড়েছিল, কিন্তু ধনের অসাম্য আর বসতবাড়ির সঙ্কটে জীবনযাত্রার মানের অবনমন সংক্রান্ত ভুল ধারণা তৈরি করেছিল। লুলাও যখন অর্থনীতিকে সাজিয়েছেন, তখন বারবার যুদ্ধদীর্ণ পৃথিবীর ভাঙাচোরা সরবরাহ শৃঙ্খল বা খামখেয়ালি শুল্ক ব্রাজ়িলের ঘাড়ে এসে পড়েছে, ফলে জনতা নিশ্চিন্ত হতে পারেনি। অস্যার্থ, অর্থনীতি খেলেও রাজনীতি না-ও গিলতে পারে।
