সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বসহকারে কাজ করছে বলে জানিয়ে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি জাহিদুল হাসান বলেছেন, আমরা ঘটনার প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছি। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করছি না। এই মামলায় একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে প্রথমে একদিন এবং পরবর্তীতে আরও চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোনা শিববাড়ি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, এই মামলায় একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে প্রথমে একদিন এবং পরবর্তীতে আরও চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের পর রহস্য উদঘাটনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মামলার অগ্রগতির বিষয়ে ডিআইজি বলেন, ‘গত রাতেও আমাদের একটি বিশেষ টিম চারটার সময় মেসেজ পাঠিয়ে জানিয়েছে যে তাদের অভিযান শেষ হয়েছে। আসামিদের ধরার জন্য এবং রহস্য উন্মোচনে আমরা এক প্রকার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি।’
তিনি জানান, নেত্রকোনা একটি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অনেক সময় অপরাধীরা অপরাধ করে সহজে সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যায়, যা আসামিদের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় কিছুটা জটিলতা তৈরি করে। তবে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এই মামলায় সিআইডি এবং পিবিআইকে যুক্ত করা হয়েছে; যাতে তারা ছায়া তদন্তের মাধ্যমে জেলা পুলিশকে আরও সহযোগিতা করতে পারে।
ডিআইজি জাহিদুল আশা প্রকাশ করেন, খুব দ্রুতই এই মামলার আসল রহস্য উন্মোচন করা হবে। ঘটনায় জড়িত প্রকৃত আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে মামলার স্বার্থে পুলিশ ধৈর্য ধরে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।
এছাড়া পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ময়মনসিংহের রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে দফাই দফায় মিটিং করেছি কিভাবে পূজার প্রত্যেকটা ইভেন্টকে আমরা সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা দিতে পারি সেজন্য নেত্রকোনায় যেহেতু পূজা মণ্ডপের সংখ্যা বেশি তাই আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ১ প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের এবং জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জ্ঞানেশ চন্দ্র সরকার, সাধারণ সম্পাদক লিটন চন্দ্র পন্ডিত।
সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির গত ১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলনজিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির পাশে একটি চা দোকানের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন। ময়নাতদন্তে নিহত আলিফের শরীরে ৬টি গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৮ জনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে শনিবার রাত পৌঁনে ১২টার দিকে দুর্গাপুর পৌরশহরের মধ্যবাজার পুরাতন সিনেমা হলের সামনে থেকে সন্দেহভাজন আসামি সাজিবুল ইসলাম অপূর্বকে গ্রেপ্তার করা হয়।
