গোমাংস খায়! শুধুমাত্র এই ‘অপরাধে’ই দিনের পর দিন এক কিশোরের উপর চলত নির্যাতন। কটুক্তি থেকে শুরু করে মারধর-কোনও কিছুই বাদ রাখেনি সহপাঠীরা। লাগাতার অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হল একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে।
জানা গিয়েছে, এ আকিলান নামে ওই কিশোর সরকার পোষিত স্কুলের ছাত্র ছিল। তার বাবা পেশায় ধোপা, মা পরিচারিকার কাজ করেন। তাঁদের অভিযোগ, কয়েকমাস আগে আকিলানের ক্লাস টিচার তফসিলি জাতির পড়ুয়াদের তালিকা তৈরি করছিলেন। সেসময় তিনি আচমকাই জিজ্ঞাসা করে বসেন, কোন ছাত্ররা গোমাংস খায়। আকিলান এবং আরেক পড়ুয়া ওই প্রশ্নের জবাবে হ্যাঁ বলে। সেখান থেকেই সমস্যার সূত্রপাত।
আকিলানের গোমাংস খাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সহপাঠীরা তাকে উত্যক্ত করতে শুরু করে। কটাক্ষ করা, মারধর একেবারে নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আকিলানের দুই সহপাঠীর দিকে আঙুল ওঠে। জানা গিয়েছে, শিক্ষক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েছিল আকিলান। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হয় আকিলান। বুধবার দুপুরে বাড়ি ফিরে আকিলানের মা দেখেন, সিলিং থেকে ঝুলছে ছেলের নিথর দেহ।
অভিযুক্ত শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকের শাস্তি চেয়ে থানায় যান আকিলানের বাবা-মা। তাঁদের তোপ, ছেলে আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখত। কিন্তু শিক্ষকদের দোষে অকালে ঝরে গেল একটি তাজা প্রাণ। মৃত্যুর পর একদিনের বেশি সময় কেটে গেলেও আকিলানের ময়না তদন্ত হয়নি। অবশেষে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। পুলিশ কমিশনার পর্যায়ে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুই পড়ুয়া এবং দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা-সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
