Published on
:
2 min read
যন্তর মন্তরে CJP-র বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে। সেই ঘটনায় শীর্ষ আদালতে হলফনামা জমা দিল দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC)। তাদের দাবি, ১০ অক্টোবর বিক্ষোভের দিন কোনও মেট্রো ট্রেন বাতিল করা হয়নি, কমানো হয়নি পরিষেবাও। তবে নিরাপত্তার কারণে দিল্লির ৩০৩টি মেট্রো স্টেশনের মধ্যে ৫৭টিতে যাত্রীদের প্রবেশ ও বেরোনোর উপর বিধিনিষেধ জারি ছিল। ফলে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার দাবি করলেও, পরোক্ষ বেশ কয়েকটি স্টেশন বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করেছেন মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ।
DMRC-র হলফনামা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শনিবারের নির্ধারিত সূচি মেনেই ২৭১টি ট্রেন চালানো হয়েছিল। পরিষেবার সংখ্যা বা ট্রেন চলাচলে কোনও কাটছাঁট করা হয়নি বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। DMRC-র চেয়ারম্যানের জমা দেওয়া হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, মেট্রো নেটওয়ার্কের প্রায় ৮৫ শতাংশ চালু ছিল। ৪৫টি ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনের মধ্যে ১৪টিতে যাত্রীদের এক লাইন থেকে অন্য লাইনে যাওয়ার সুবিধাও অন্যান্য দিনের মতো অপরিবর্তিত ছিল।
নিরাপত্তার কারণে বন্ধ ৫৭টি স্টেশন
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে CJP-র বিক্ষোভের আগে নিরাপত্তার কারণে দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশনে ঢোকা ও বেরোনো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। DMRC-র বক্তব্য, নির্দিষ্ট কয়েকটি স্টেশনে বিধিনিষেধ থাকলেও বিকল্প স্টেশন খোলা রাখা হয়েছিল, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো যায়। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পরে বিধিনিষেধ পর্যালোচনা করে প্রভাবিত স্টেশনের সংখ্যা কমানো হয় বলেও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
যাত্রী সংখ্যা কমল কেন?
DMRC-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর মেট্রোয় যাতায়াত করেছিলেন প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষ। অথচ সরকারি ছুটির দিন না হলে মাসের দ্বিতীয় শনিবারে সাধারণত যাত্রী সংখ্যা প্রায় ৫৮ লক্ষ থাকে। বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের জেরে বহু যাত্রী সেই দিন মেট্রোয় যাতায়াত এড়িয়ে গিয়েছিলেন বলেই এই পার্থক্য বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, বিক্ষোভের আগে মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা বন্ধের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের বক্তব্য ছিল, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলেও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার ও সুবিধা উপেক্ষা করা যায় না। সেই প্রেক্ষিতেই DMRC-র এই হলফনামা গুরুত্বপূর্ণ।