Published on
:
2 min read
SIR-এ নাম বাদ ও ভোট চুরি নিয়ে বিদেশের মাটিতে বিক্ষোভের ডাক ধ্রুব রাঠির। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে বিপাকে ইউটিউবার। ভারত ছাড়লেও রাঠির নামে নতুন করে জারি হলো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
২০১৮ সালের মানহানি মামলায় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল দিল্লির সাকেত আদালত। শনিবার, ১৭ অক্টোবর, বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল জৈন এই নির্দেশ দেন। বিজেপির আইটি সেলের সদস্য বিকাশ পাণ্ডে ওরফে বিকাশ সংস্কৃত্যায়নের দায়ের করা মামলায় এই পদক্ষেপ। ‘BJP IT Cell Part II’ শীর্ষক একটি ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে ধ্রুবের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ উঠেছিল।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ধ্রুবের বিরুদ্ধে আগে সমন জারি করা হলেও তা পৌঁছে দেওয়া যায়নি। সমন পৌঁছে দিতে গিয়ে আদালতের কর্মী তাঁর গুরুগ্রামের বাড়ি তালাবন্ধ অবস্থায় পান। এর পরেই জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্ত নেয় আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩১ অক্টোবর। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া আপডেট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে লন্ডনে আছেন ধ্রুব।
কী অভিযোগ ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে?
২০১৮ সালের মে মাসে ‘BJP IT Cell Part II’ নামে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছিলেন ধ্রুব রাঠি। অভিযোগকারী বিকাশ পাণ্ডে, ‘আই সার্পোট নরেন্দ্র মোদী’ নামে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দাবি করেন, ওই ভিডিয়োয় তাঁকে নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ করা হয়েছিল। পাণ্ডের অভিযোগ, বিজেপির আইটি সেলের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য মহাবীর প্রসাদ নামে এক ব্যক্তিকে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি, বলে ভুয়ো দাবি করা হয়েছিল ভিডিয়োয়। এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন পাণ্ডে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই মানহানির মামলা শুরু হয়। তবে অভিযোগগুলি এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নামও জড়িয়েছিল মামলায়
ধ্রুবের প্রকাশিত ভিডিয়োটি তৎকালীন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও নিজের এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করেছিলেন। পরে ভিডিয়োটি রিটুইট করার কারণে কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা দায়ের করেন পাণ্ডে। ফলে এই মামলা শুধু ইউটিউবের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি, রাজনৈতিক ময়দানেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেয়। আদালতে তাঁর আইনজীবী ভিডিয়োটি পুনরায় পোস্ট করাকে ভুল বলে স্বীকার করেছিলেন। তবে ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে মামলা চলতে থাকে।
দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে এসে ফের আইনি জটিলতায়
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে দিল্লিতে CJP-র বিক্ষোভে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন ধ্রুব রাঠি। ১০ অক্টোবর গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। প্রায় ২২ ঘণ্টা পরে মুক্তি পান তিনি। এই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই ২০১৮ সালের মানহানি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে সমন জারি হয়েছিল। এ বার জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করল আদালত।
