Published on
:
2 min read
দীপাবলিতে অনুরাগীদের কাছ থেকে মিষ্টি চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বদলে বাড়িতে আসতে শুরু করল টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিনের মতো দামি জিনিস। একের পর এক ক্যাশ অন ডেলিভারি বা COD অর্ডার আসতে থাকায় শেষ পর্যন্ত বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হলেন তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ের এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার। তাঁর নাম বীরামণি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বারবার আবেদন জানিয়েও থামাতে পারছেন না এই কাণ্ড। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, শহর ছেড়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত দীপাবলিকে ঘিরে। উৎসবের সময় অনুরাগীরা তাঁকে মিষ্টি পাঠাবেন, এমনটাই আশা করেছিলেন বীরামণি। সেই আশায় সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ফোন নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা প্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু মিষ্টির বদলে শুরু হয় অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। তাঁর নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে একের পর এক ভুয়ো COD অর্ডার দেওয়া হতে থাকে। সেই অর্ডারের তালিকায় ছিল টেলিভিশন, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন-সহ নানা দামি জিনিস।
একটি টেলিভিশনের অর্ডারের মূল্য ছিল ১ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে আরও কিছু অদ্ভুত দাবিও। কোথাও বলা হয়, তাঁর নামে ৭০ কোটি টাকার একটি টি-৯০ সামরিক ট্যাঙ্ক অর্ডার করা হয়েছে। আবার কোথাও অ্যাম্বুল্যান্স, এমনকী রকেট অর্ডার দেওয়ার কথাও প্রচার করা হয়।
সমস্যা বাড়তে থাকে অর্ডারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। COD পদ্ধতিতে পণ্য পৌঁছলে ডেলিভারির সময় টাকা দিতে হয়। অথচ বীরামণি ওই জিনিসগুলির কোনওটাই অর্ডার করেননি। ফলে একদিকে দামি পণ্য নিয়ে ডেলিভারি কর্মীরা তাঁর বাড়িতে আসছেন, অন্যদিকে তাঁদের টাকা দেওয়ার চাপও তৈরি হচ্ছে। এতে অস্বস্তিতে পড়ছেন ডেলিভারি কর্মীরাও। কারণ, তাঁরা দূর থেকে পণ্য নিয়ে আসছেন, অথচ ক্রেতা সেই অর্ডার সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
পরিস্থিতি সামলাতে শেষ পর্যন্ত ইনস্টাগ্রামে ভিডিয়ো পোস্ট করে আবেদন জানান বীরামণি। যাঁরা এই কাজ করছেন, তাঁদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, কেন এ ভাবে তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে? একটি ভিডিয়োয় তিনি বলেন, আধ ঘণ্টার মধ্যে ১৫টি অর্ডার এসেছে। এত টাকার পণ্য কেনার সামর্থ্য তাঁর নেই। দূর থেকে ডেলিভারি কর্মীদের আসতেও হচ্ছে। তাই এই ধরনের মজা বন্ধ করার আবেদন জানান তিনি।
আরও একটি ভিডিয়োয় ডেলিভারি কর্মীদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন বীরামণি। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা নিজেদের কাজ করছেন, তাঁদের অকারণে অপমানিত হতে হচ্ছে। অথচ এই অর্ডারগুলির সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বারবার অনুরোধ করছেন, যেন এই ঘটনা বন্ধ করা হয়।
কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির বদল হয়নি বলে দাবি তাঁর। উল্টে দামি পণ্যের অর্ডার ঘিরে নানা জনের ফোন ও বকাঝকার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে। শেষ পর্যন্ত শহর ছেড়ে যাওয়ার কথা জানান বীরামণি। তাঁর কথায়, অনেকেই তাঁকে খুঁজছেন এবং অর্ডারগুলির জন্য তাঁকেই দোষারোপ করছেন।
