জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচ সামনে রেখে রাজশাহী যাওয়ার পথে বিপাকে পড়েছেন রাজশাহী বিভাগের তিন ক্রিকেটার ও দলের এক কর্মকর্তা। ঢাকা থেকে কাভার্ডভ্যানে পাঠানো মালপত্রের আটটি লাগেজ চুরি হওয়ার ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। বেশিরভাগ মাল উদ্ধার করা গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি কয়েকটি মূল্যবান সামগ্রীর।
চুরির শিকার হয়েছেন রাজশাহী বিভাগের খেলোয়াড় স্পিনিং অলরাউন্ডার এসএম মেহেরব হাসান, পেসার মোহর শেখ অন্তর ও আলি মোহাম্মদ ওয়ালিদ। পাওয়া যায়নি দলটির টিম বয় আব্দুল কাদেরের লাগেজও। মঙ্গলবার রাতে রাজশাহীতে পৌঁছে কাভার্ডভ্যান থেকে মালপত্র নামানোর সময় আটটি লাগেজের খোঁজ পাননি দলের সদস্যরা। পরে এ ঘটনায় রাজপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মেহেরব।
জানা গেছে, দলের ৫৪টি লাগেজ ঢাকা থেকে কাভার্ডভ্যানে করে রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছিল। পথে পুঠিয়া এলাকার একটি হোটেলে খাবারের বিরতি দেন চালক। পুলিশ সূত্র বলছে, বিরতির পর যাত্রা শুরুর আগে ভ্যানের পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান তিনি। দরজা বন্ধ করে ফের রওনা হলেও রাজশাহীতে পৌঁছানোর পর লাগেজ হারানোর বিষয়টি ধরা পড়ে।
চুরি হওয়া সেই মালপত্রের মধ্যে ছিল ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী। মেহেরবের দাবি, তার লাগেজে পাসপোর্ট, আইফোন, তিন লাখ টাকা, ৩০০ মার্কিন ডলার ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ছিল। মোহরের লাগেজেও ছিল মূল্যবান ইলেকট্রনিকস। আর টিম বয় আব্দুল কাদেরের ব্যাগে ছিল খেলার সরঞ্জাম ও স্পাইক।
ঘটনাস্থল পুঠিয়া এলাকায় হওয়ায় রাজশাহী ও নাটোর জেলা পুলিশ যৌথভাবে তদন্তে নামে। পুলিশের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিরাপত্তা বিভাগের তৎপরতায় বেশিরভাগ মাল উদ্ধার করা হয়। পরে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ভুক্তভোগীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
রাজশাহী দলের ম্যানেজার তৌকির জানান, লাগেজ হারানোর বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ ও বিসিবিকে অবহিত করেন তারা। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপে বেশিরভাগ মাল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
তবে সব মাল ফিরে না পাওয়ায় উদ্বেগ কাটেনি ক্রিকেটারদের। মোহর শেখ অন্তর জানিয়েছেন, অন্যদের বেশিরভাগ মাল উদ্ধার হলেও তার লাগেজটি এখনো পাওয়া যায়নি। একইভাবে মেহেরবের লাগেজে থাকা তিন লাখ টাকারও কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনের মধ্যে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। বাকি মালপত্র উদ্ধারের আশায় বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা ছিল ভুক্তভোগী ক্রিকেটারদের।
