Published on
:
1 min read
এই সময়, কোচবিহার: গত ১৯ অগস্ট রক্তাক্ত অবস্থায় বড়গিলা এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছিল কোচবিহারের এক অতিরিক্ত জেলাশাসকের গাড়ির চালক তাপস সরকারকে। পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে তাঁকে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে রাতে স্কুটি নিয়ে বের হয়েছিলেন তিনি। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।
ওই ঘটনার দু’মাস পরে অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে নিহতের স্ত্রী সুস্মিতা অধিকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সুস্মিতাই স্বামী মারা যাওয়ার পরে প্রচণ্ড কান্নাকাটি করেছিলেন এবং থানায় অভিযোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছিলেন। খুনের ঘটনায় অর্জুন পাল নামে এক যুবককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে সুস্মিতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অনুমান। ধৃত অর্জুন গত বছর কোচবিহারের ডোডেয়ারহাটে তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলে অমর রায় খুনেও অন্যতম অভিযুক্ত। মৃত তাপসের মা তাঁর পুত্রবধূ এবং অর্জুনের ফাঁসি দাবি করেছেন ।
তাপসের বাড়ি কোচবিহার ২ ব্লকের খাপাইডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের তল্লিতলা এলাকায়। সেই এলাকা থেকে দু’কিলোমিটার দূরে রাস্তার ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল তাঁকে। সিসিটিভি ফুটেজে় দেখা যায়, দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাপসকে গাড়িতে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। সেই ফুটেজ় ধরে তদন্তে উঠে আসে অর্জুন পালের নাম।
পুলিশের খাতায় তিনি একজন দাগী দুষ্কৃতী। অর্জুনকে ধরার পরেই তার সঙ্গে সুস্মিতার যোগসূত্র খুঁজে পায় পুলিশ। এরপরই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রেপ্তার করা হয়। তাপসের মা পূর্ণিমা সরকার বলেন, ‘অর্জুনের সঙ্গে বৌমার অনেকদিন আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল বলে জানতে পেরেছি। এ নিয়ে বাড়িতে দু’–একবার অশান্তিও হয়েছিল। তবে ছেলেকে যে মেরে ফেলবে, সেটা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। ওদের ফাঁসি চাইছি।’
