নিষেধাজ্ঞা অমান্য • পদ্মাপাড়ে প্রকাশ্যে বিক্রি, ১৫০০ টাকা কেজি বড় ইলিশ
সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পদ্মাপাড়ে যেন ইলিশ ধরার উৎসব চলছে। মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মাপাড়ে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এসব ইলিশ। প্রতিদিন ভোরে ও বিকেলে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন ক্রেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসুরা বাজার সংলগ্ন পদ্মার পারসহ চরজানাজাত, কাঠালবাড়ি, হিরাখার বাজার সংলগ্ন নদীর পাড়সহ পদ্মানদীর চর এলাকার ৪-৫টি স্থানে ইলিশের হাট বসেছে।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রশাসন বলছে, মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মা নদীতে উপজেলা মৎস্য অফিস, প্রশাসন, নৌপুলিশের অভিযান চলছে। সময় ভাগ করে একাধিক টিম পদ্মায় অভিযান পরিচালনা করছে। জেলে আটকসহ জব্দ করা হচ্ছে লাখ লাখ মিটার কারেন্ট জাল। তারপরও থামছে না ইলিশ শিকার।
সরেজমিন দেখা গেছে, বন্দরখোলা ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে পদ্মাপাড়ের কাজিরসুরা বাজার। বাজারের পাশেই নদীর পাড়ে খোলা জায়গায় বসেছে ইলিশের অস্থায়ী হাট। নদীর পাড়ে একের পর এক ট্রলার এসে ভিড়ছে। ট্রলারে বসেই বিক্রি করছেন জেলেরা।
বিজ্ঞাপন
নদীর পাড়েও মাছ নিয়ে সারিবদ্ধভাবে বসেছেন বিক্রেতারা। দরদাম করে মাছ কিনছেন সাধারণ মানুষও। তুলনামূলকভাবে দাম কিছুটা কম থাকায় ক্রেতাদের ভিড়। বড় মাছগুলোর বেশিরভাগই ডিমে পূূর্ণ।

দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষ মাছ কিনতে আসছেন। দাম কম হওয়ায় বেশি করে কিনছেন তারা। এক কেজি ওজনের ইলিশ নদীর পাড়ে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ টাকা আর ছোট ইলিশ ৫০০ থেকে হাজার টাকা।
নাম না প্রকাশে কাজিরসুরা এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘প্রতি বছরই নিষিদ্ধ মৌসুমে মাছ কিনতে পদ্মার পাড়ে ক্রেতারা ভিড় জমায়। পদ্মার তাজা ইলিশের লোভেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন আসে। জেলেরাও মাছ ধরা বন্ধ করে না।’
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাতে ধরা মাছগুলো ভোর থেকে বিক্রি হয়। ফজরের আজানের পরপরই মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বেচাবিক্রি চলে। এরপর দিনে যেসব মাছ ধরা হয় তা নিয়ে আসরের পর বেচাকেনা শুরু হয়। চলে রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত। এছাড়া নদীর বিভিন্ন চর এলাকায় রাতেও মাছ পাওয়া যায়। তবে অভিযানের কারণে চরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মাছ বিক্রি করেন জেলেরা।
মাছ কিনতে আসা আয়নাল হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাছগুলো টাটকা। পছন্দমতো পাওয়া যায় বলে এখানে কিনতে এসেছি। দামও তুলনামূলক কম।’
বিজ্ঞাপন
নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মাছ বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা বন্ধ রাখলেও তো সবাই বন্ধ রাখে না। মাছ ঠিকই ধরে। এই সময়ে নতুন জেলেদের আগমন ঘটে। তারা মাছ ধরবেই। তাই আমরাও ধরি। তাছাড়া মাছ না ধরলে সংসার চলবে কীভাবে? ভোরে ও বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত মাছ বিক্রি হয়। দাম একটু কম।’
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে পুরো এলাকায় শতভাগ নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকে এ পর্যন্ত অভিযানে নিয়মিত অভিযান চলছে। জাল ধ্বংসসহ জেলেদেরও আটক করা হচ্ছে।’
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চলছে। পদ্মার তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ অস্থায়ী হাটগুলো বন্ধ করতে শিগগির বড় ধরনের সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এসআর/জেআইএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
