“মাঝবয়সী ব্যক্তিটিকে কোনওমতে উদ্ধার করার পর তাঁকে সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। ইউটিউব দেখে শিখেছিলাম কীভাব পাম্প করতে হয়। কিন্তু চেষ্টা বিফলে গেল। দর্শনার্থী এক চিকিৎসক এসে পালস পরীক্ষা করে জানালেন মৃত্যু হয়েছে তাঁর।” আক্ষেপ বিক্রম প্রসাদ বা ভিকির। শনিবার রাতে চোরবাগানে মণ্ডপের গায়েই ভুবন ব্যানার্জি লেনে বসেছিলেন এলাকারই যুবক নীতেশ সিং, ভিকি প্রসাদ, রনিক সিং, অভিষেক রাইরা।
নীতিশ, ভিকিরা জানান, হঠাৎই বাইরে বেরনোর গেটের দিক থেকে খুব চেঁচামেচির শব্দ ভেসে আসে। প্রথমে মনে হয়, কোনও গোলমাল হচ্ছে। কেউ একটা বলে উঠল, পদপিষ্ট হয়ে গিয়েছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কাছে পৌঁছন তাঁরা। গিয়েই চমকে ওঠেন। দেখেন, একাধিক শরীরের উপরের অংশ দেখা যাচ্ছে। চাপা পড়ে গিয়েছে নিচের অংশ। কাউকে বের করে নিয়ে আসাও সম্ভব হচ্ছে না। তবুও কারও হাত ধরে, কাউকে বা পাশ দিয়ে কোনওমতে বের করে আনার চেষ্টা করা হয়। ভিতরে সাজসজ্জা করা হয়েছিল কিছু প্লাইউড দিয়ে। দর্শনার্থীদের চাপে সেগুলি ভেঙে পড়ে। তাতে কিছু জায়গা তৈরি হয়। উদ্ধারকাজ কিছুটা সহজ হয় তাতে। বছর সাতেকের একটি মেয়ে চাপা পড়ে গিয়েছিল। তাকে কোনওমতে বের করে নিয়ে আসা হয়। প্রাণে বেঁচে যায় সে। কিন্তু সিপিআর দেওয়ার পরও মাঝবয়সী ব্যক্তিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ভিকি, নীতিশরা জানান, তাঁরা উদ্ধারকাজের সময়ই দেখেন, অনেকের মোবাইল ভেঙে পড়ে রয়েছে। সেগুলি সংগ্রহ করে তাঁরা পুলিশের হাতে তুলে দেন। বাইরের গেট দিয়ে ভুবন ব্যানার্জি ও পার্বতী ঘোষ লেন দিয়ে তাঁদের সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবে অন্তত ১৫ জনকে তাঁরা উদ্ধার করে বড় রাস্তায় নিয়ে যান। যে গাড়ি পেয়েছেন, তাতেই তুলে দিয়ে বলেছেন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছে দিতে। ফের দৌড়ে এসে হাত লাগিয়েছেন উদ্ধারকাজে। তখনও বৃষ্টি হচ্ছিল। কয়েকজন আহতকে তাঁরাই বাড়ির চত্বরে বসিয়ে জল খাওয়ান। আহতদের কারও মুখ দিয়ে রক্ত, কারও মাথায় কেটেছে। জামাকাপড় ছিড়েছে। তখন কিছু না ভেবে শুধু প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন প্রত্যেকে।
