‘নিষিদ্ধ’ যন্তর মন্তরে ব্যারিকেড টপকে ককরোচদের হানা। ফের আটক সৌরভ-আশুতোষরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তপ্ত রাজধানী। প্রতিবাদের আঁচ আছড়ে পড়েছে মায়ানগরী মুম্বইতেও। সবমিলিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত তা বললে অত্যুক্তি হবে না। এর মাঝেই আরও এক চমকপ্রদ খবর। অভিনেতা-সঞ্চালক মাত্র চব্বিশ মিনিটের জন্য বাস্তবের বিজেপি নেতা! শুনে আবাক বলেও এটাই কিন্তু, ঘোর বাস্তব।
এই ঘটনায় ‘নায়ক’ সিনেমায় অনিল কাপুরের একদিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে দর্শকের মনে দোলা দেবে। তবে শেখর সুমনের বিজেপি যোগের নেপথ্যে রয়েছে এক অন্য কাহিনি। দোসর অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার অভিমান। অভিনেতা ও উপস্থাপক শেখর সুমন তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) উভয়ের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৎকালীন বিজেপির প্রবীণ নেতা ও অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
পরে ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দলত্যাগ করেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা তাঁর সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক জীবন নিয়ে অজানা গল্প শুনিয়েছেন। ২০২৪ সালের মে মাসে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কেন বেরিয়ে গিয়েছিলেন?সঞ্চালকের প্রশ্নের উত্তরে শেখর বলেন, “এটা মাত্র একদিনের জন্য ছিল। এমনকি চব্বিশ ঘণ্টাও নয়। বলা ভালো ২৪ মিনিট। আসলে যখন একজন মানুষের বোধবুদ্ধি বিলুপ্ত হয়ে যায় তখন এমনটা ঘটে।”
রাজনীতি নিয়ে কোনওভাবেই আর আগ্রহী নন শেখর সুমন। এই মর্মে অভিনেতা-সঞ্চালকের সংযোজন, “যখন যেখানে ভালোবাসা পেয়েছি আমি ছুটে গিয়েছি। এটা নিয়ে আমার কোনও অনুশোচনা নেই। আর আমি ভুল বলেও মনে করি না। আমি রাজনীতিতে আগ্রহী নই। আপনার মনে হতে পারে কেউ আপনার পাশে আছে কিন্তু বাস্তব সেটা নয়।” শেখর সুমনের রাজনৈতিক যোগদানে শত্রুঘ্ন সিনহা কেন কষ্ট পেয়েছিলেন? ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তখকালীন বিজেপি নেতা শত্রুঘ্ন সিনহার বিরুদ্ধে লড়েছিলেন শেখর। সেই ঘটনায় আঘাত পেয়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা।

এপ্রসঙ্গে শেখর জানান, “আমি ওঁর বিরুদ্ধে লড়িনি। আমরা শুধু ভিন্ন দলের প্রার্থী ছিলাম। উনিও তো রাজেশ খান্নার বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। কিন্তু সেটাও আসলে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই ছিল না। উনি কষ্ট পেয়েছিলেন। কিন্তু কেন উনি কষ্ট পেয়েছিলেন, সেটা আমি বুঝতে পারিনি।” আরও বলেন, “আমরা দু’জনেই প্রার্থী ছিলাম। লড়াইটা ছিল আমাদের আলাদা রাজনৈতিক মতাদর্শের। আমি ওঁকে খুব শ্রদ্ধা করি। উনি বরাবরই আমাকে সাহায্য করেছেন। মুম্বইয়ে উনি আমার কাছে একটা বড় ভরসার জায়গা ছিলেন। আমি না জানিয়ে প্রার্থী হওয়ায় উনি খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। হয়তো আমার ওঁকে জানানো উচিত ছিল। যদি এতটা আঘাত পান তাহলে নির্বাচনে দাঁড়ানোই উচিত হয়নি। কারণ, আমার কাছে এটা এমন কোনও গুরুতর বিষয় ছিল না।”
শেখর সুমন স্বীকার করেছেন, পারিপার্শ্বিক চাপেই তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০০৪ সালে কংগ্রেসের তৎকালীন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে একটি বৈঠকের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার সূত্রপাত।
