সংবাদ · সাধারণ
‘সৃজনশীল শিল্পেই তৈরি হবে প্রবৃদ্ধির নতুন গতি’
২৪/১০/২০২৬

সৃজনশীল শিল্পকে দেশের মূলধারার অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক মঞ্চে ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিল্প-সংস্কৃতি, গ্রামীণ কারুশিল্প, সংগীত, চলচ্চিত্র ও থিয়েটারকে মূলধারার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করে দেশের নতুন জিডিপি প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।শনিবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্রিয়েটিভ ফুটপ্রিন্টস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে প্রথাগত অর্থনৈতিক ভাবনার পরিবর্তন তুলে ধরে বলেন, “প্রথাগত অর্থনৈতিক ভাবনায় শিল্প ও সংস্কৃতিকে সবসময় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পেছনে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার এই চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীল অর্থনীতিকে দেশের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃদ্ধির নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”এই বিশাল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের তাগিদ দিয়ে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “সরকারের একার পক্ষে এই বিশাল কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই নীতি ও অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই খাতকে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে। এরই মধ্যে সরকার বাজেটে এর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করেছে এবং বেসরকারি খাতও এতে বড় ধরনের অর্থায়ন করতে এগিয়ে আসছে।”সৃজনশীল খাতের প্রসারে সরকারের নানামুখী রূপরেখা ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশীয় কারুশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা তৈরি (ডিজাইনিং), ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম যেমন: আমাজন, ইবে ও আলিবাবার মাধ্যমে বিপণন সহায়তা প্রদান করা হবে। এতে করে দেশের প্রান্তিক শিল্পী ও কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্যের সঠিক মূল্যায়ন ও নগদায়ন সম্ভব হবে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় অবদান রাখবে।বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর গুরুত্ব নিয়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “এটি কেবল শিল্প, কারুশিল্প বা ব্যবসা নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ‘সফট পাওয়ার’। সংগীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে নিজস্ব অবস্থান শক্ত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।”বক্তব্যের শেষভাগে চমৎকার এই উদ্যোগের জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান অর্থমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রচেষ্টায় দেশে একটি যুগান্তকারী সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব সাধিত হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এনামুল হক।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗