কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকালের খাবার কখন খাবেন?
-
খবরপত্র ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৮:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
অনেকেই আছেন সকালে অনেক দেরিতে নাশতা করেন। আবার অনেকে আছেন ঘুম থেকে উঠেই সকালের খাবার খেয়ে নেন। কিন্তু সবার জন্যই কি একই নিয়ম। তেমনটা একেবারেই না। একেকজনের শারীরিক অবস্থা, জীবনব্যবস্থা একেক রকম, সেভাবেই খাবারের সময় নির্ধারণ করা ভালো।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম থেকে ওঠার দুই ঘণ্টার মধ্যে সকালের খাবার খেলে তা উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাশতা বাদ দিলে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
সকালের নাশতা শুধু শরীরে শক্তি জোগায় না, ক্ষুধাও নিয়ন্ত্রণে রাখে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সকালের নাশতা খাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে এলডিএল কোলেস্টেরলের নিম্নমাত্রা এবং উচ্চ ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন (এইচডিএল) বা ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের উচ্চমাত্রার সম্পর্ক রয়েছে। তবে গবেষকেরা মনে করেন, নাশতা খাওয়ার সময়ের সঙ্গে কোলেস্টেরলের মাত্রার সম্পর্ক পুরোপুরি বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
কেন সকালের নাশতা বাদ দেওয়া উচিত নয়
সকালের নাশতাকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার বলা হয়। কারণ শরীরে শক্তি ও পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি, সকালের খাবার প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, বিপাকক্রিয়া এবং কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে।
সকালের নাশতা বাদ দিলে যেসব সমস্যা হতে পারে-
উচ্চ রক্তচাপ: সপ্তাহে তিন দিন বা তার কম সকালের খাবার খাওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
ওজন বৃদ্ধি: সকালের নাশতা বাদ দিলে ওজন বৃদ্ধি, কোমরের মাপ বাড়া ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
হৃদরোগ ও ধমনির সমস্যা: সকালের নাশতা বাদ দেওয়ার সঙ্গে ধমনিতে চর্বি জমা ও হৃদরোগের সম্পর্ক রয়েছে। এসব সমস্যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
টাইপ ২ ডায়াবেটিস: নিয়মিত সকালের খাবার বাদ দেওয়া টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।
মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা: সকালের নাশতা বাদ দিলে বিষণ্নতা ও মানসিক চাপের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিশোর-কিশোরীদের উদ্বেগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
চিন্তা ও স্মৃতিশক্তিতে সমস্যা: সকালের খাবার বাদ দিলে মনোযোগ ধরে রাখা ও কর্মক্ষম স্মৃতিশক্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সকালের খাবার যেভাবে কাজে লাগাবেন
সকালের খাবার স্বাস্থ্যকর ও সুষম হলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। এ জন্য কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখুন।
ফলমূল ও শাকসবজি খান: এগুলোতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, আঁশ ও উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান।
আঁশযুক্ত খাবার বাড়ান: ওটমিল ও তাজা ফলের মতো আঁশসমৃদ্ধ খাবার হজমে সহায়তা করে এবং শরীরে কোলেস্টেরল শোষণ কমাতে পারে।
অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন: লবণ সরাসরি কোলেস্টেরল বাড়ায় না, তবে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে হৃদ্রোগের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার খান: ইলিশ, মলা ও সরপুঁটির মতো মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস। এগুলো রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
উচ্চ কোলেস্টেরল কেন ঝুঁকিপূর্ণ
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হলে ধমনি সরু হয়ে যেতে পারে, ফলে রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া, উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে এনজাইনা বা বুকে ব্যথা হতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
উচ্চ কোলেস্টেরল বিপজ্জনক, কারণ অনেক সময় এর কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। সাধারণত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এ সমস্যা শনাক্ত করা হয়। আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে কিংবা তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ
ট্যাগস :
