আফসানা নুর,ব্যুরো প্রধান,চট্টগ্রাম বিভাগ:
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুয়েল রানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৪ ধারা অনুযায়ী পরবর্তী পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা সরকার ভিন্ন কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় তিনি মেয়রের সমপরিমাণ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন এবং বিধি অনুযায়ী মাসিক সম্মানি ও অন্যান্য ভাতাদি পাবেন।
এর আগে, আদালতের রায়ের পর ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন ডা. শাহাদাত হোসেনকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে তিনি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নগর প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তাঁকে পূর্ণকালীন প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় যেসব বিষয়ে গুরুত্ব
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক সংস্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জলাবদ্ধতা নিরসন: নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবিলায় নালা-নর্দমা পরিষ্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খালের প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মশক নিধন ও স্বাস্থ্যসেবা: মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে মশক নিধন কার্যক্রম ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি চসিকের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সড়ক সংস্কার ও আলোকায়ন: নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সড়কবাতি স্থাপনের মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থা ও জননিরাপত্তা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ কার্যক্রম জোরদার এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নাগরিক সেবা সহজীকরণ: হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা সহজ ও গতিশীল করার মাধ্যমে নাগরিক ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করা হয়।
পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর নগরীর চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, নাগরিক সেবার ধারাবাহিকতা এবং চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
