উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন একটি পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা করা না হলে এটি হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কিডনির জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।
উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর উল্লেখযোগ্য কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই আক্রান্ত হওয়ার পরও বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তাই সুস্থ বোধ করলেও নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি।
কীভাবে বুঝবেন রক্তচাপ বেশি
রক্তচাপ মাপার সময় দুটি সংখ্যা পাওয়া যায়। ওপরের সংখ্যাটি সিস্টোলিক চাপ, যা হৃদ্যন্ত্র সংকুচিত হয়ে রক্ত পাম্প করার সময়ের চাপ নির্দেশ করে। নিচের সংখ্যাটি ডায়াস্টোলিক চাপ, যা হৃদ্যন্ত্রের স্পন্দনের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তনালিতে থাকা চাপ নির্দেশ করে।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ১২০/৮০ মিমি পারদ বা এর কাছাকাছি রক্তচাপকে আদর্শ মাত্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন নির্দেশিকায় উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয়ের সীমা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই একবারের রিডিংয়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিয়মিত মাপা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কেন বাড়ে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি বয়স বৃদ্ধি ও পরিবারের নিকটাত্মীয়দের উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাসও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
দীর্ঘদিন রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে হৃদ্যন্ত্র, মস্তিষ্ক, কিডনি, চোখ ও রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এসব জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন: প্রতিদিনের খাবারে লবণ কমান। শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, পূর্ণশস্য ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিন রাখুন। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও লবণসমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলুন।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম, যেমন দ্রুত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে তা কমানোর চেষ্টা করুন।
ধূমপান ছাড়ুন: ধূমপান রক্তনালি ও হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতি করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ এড়িয়ে চলুন।
নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন: বাড়িতে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী রিডিং নথিবদ্ধ করুন। এতে রক্তচাপের পরিবর্তন বোঝা সহজ হবে।
ওষুধ বন্ধ করবেন না
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরও অনেকের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধ প্রয়োজন হয়। কারও ক্ষেত্রে একাধিক ওষুধও লাগতে পারে। চিকিৎসক রোগীর বয়স, রক্তচাপ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যা বিবেচনা করে ওষুধ নির্ধারণ করেন।
রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা বা ডোজ কমানো উচিত নয়। এতে রক্তচাপ আবার বেড়ে যেতে পারে এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের সমন্বয়ই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ব্যক্তিভেদে চিকিৎসার প্রয়োজন আলাদা হতে পারে। তাই নিজের অবস্থার উপযোগী পরিকল্পনা তৈরিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সূত্র: সহায়