আজকাল ওয়েবডেস্ক: এগিয়ে আসছে উত্তরপ্রদেশের বিধানসবা ভোট। ২০২৭ সালে দেশের সবচেয়ে বৃহৎ আসন সংখ্যার রাজ্য়ে নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতায় বিজেপি। নির্বাচনে কে বাজিমাত করবে? ফের জিতবেন যোগী? নাকি এবার পালাবদলের হাওয়া? ‘নিউজ১৮ ইউপি মেগা সার্ভে’-র তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে এই মুহূর্তে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) স্পষ্টভাবেই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ভোটাররা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের শাসনব্যবস্থার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।
‘পি-ভ্যালু অ্যানালিটিক্স’-এর সহযোগিতায় পরিচালিত এই মেগা সার্ভেতে রাজ্যের ৭৫টি জেলার ৩০,৯২৫ জন ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬৬.৬ শতাংশ জানিয়েছেন যে, তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)-কে ভোট দেবেন। অন্যদিকে, ২৬.৪ শতাংশ সমাজবাদী পার্টি-কংগ্রেস জোটের প্রতি এবং ৫.৪ শতাংশ বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
৬৫.২ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে, উত্তরপ্রদেশে বিজেপিকে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আনা উচিত।
কেন এই ‘নিউজ১৮ ইউপি মেগা সার্ভে’?
২০২৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিজেপি গত দুই মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রতি বর্তমান জনমত কেমন এবং সরকারের কার্যকারিতা সম্পর্কে নাগরিকদের ধারণা কী- তা যাচাই করার জন্যই এই জনমত সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এতে শাসন ও উন্নয়নের সাতটি মূল দিক- আইন-শৃঙ্খলা, পরিকাঠামো, কল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, শিক্ষা পরিকাঠামো, দুর্নীতি এবং কর্মসংস্থান নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে জনপরিসরে আলোচিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেমন-‘জেন-জি’-দের বিক্ষোভ এবং রাম মন্দিরের জন্য অনুদান সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে।
সমীক্ষায় সামগ্রিকভাবে, ৭৭.১ শতাংশ উত্তরদাতা যোগী আদিত্যনাথ সরকারের কাজে সন্তুষ্ট। অসন্তুষ্ট উত্তরদাতার হার মাত্র ১৩.৫ শতাংশ। পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও আদিত্যনাথই সবার পছন্দের শীর্ষে রয়েছেন। সমর্থনের হার ৬৬.২ শতাংশ। অখিলেশ যাদবের পক্ষে মত দিয়েছেন ২৪.৪ শতাংশ।
- কার্যকারিতা পরিমাপের সাতটি সূচকের মধ্যে ‘আইন-শৃঙ্খলা’ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে সন্তুষ্টির হার সবচেয়ে বেশি- ৭৪.০ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন (৬৮.৬ শতাংশ) এবং জনকল্যাণমূলক পরিষেবা প্রদান (৬৬.৩ শতাংশ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গেও সবচেয়ে জোরালোভাবে যুক্ত। বর্তমান বিজেপি/এনডিএ ভোটারদের মধ্যে ৮৯.৬ শতাংশ এই ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকারিতায় সন্তুষ্ট, যেখানে এসপি-কংগ্রেস এবং বিএসপি ভোটারদের মধ্যে এই হার প্রায় ৪৩ শতাংশ। এই তথ্যটি আরও জোরালো হয় যখন দেখা যায় যে, ৩৩.৪ শতাংশ উত্তরদাতার কাছে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে ‘আইন-শৃঙ্খলা’ পরিস্থিতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- বর্তমান ভোটের প্রবণতা এবং পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজেপি তাদের ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভোটারদের প্রায় ৯১ শতাংশকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে এসপি-কংগ্রেস জোট ধরে রেখেছে প্রায় ৮৩-৮৫ শতাংশ ভোটারকে। বিজেপির নির্বাচনী সুবিধা কেবল তাদের বিদ্যমান ভোটারদের ধরে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং যারা আগে ভোট দেননি বা অন্য দল থেকে সরে এসেছেন, তাদের নিজেদের দিকে টেনে আনার সক্ষমতাও তাদের এই সুবিধার একটি বড় কারণ।
- সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে শহর ও গ্রামীণ এলাকার মানুষের ধারণার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। সাতটি মানদণ্ডেই উভয় গোষ্ঠীর সন্তুষ্টির মাত্রা প্রায় সমান। আঞ্চলিকভাবে রুহেলখণ্ড অঞ্চলটি সবচেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে, যেখানে প্রায় প্রতিটি মানদণ্ডেই সন্তুষ্টির হার সর্বোচ্চ বা সর্বোচ্চের কাছাকাছি।
- বিজেপির বর্তমান সমর্থনের মূলে রয়েছে তাদের দলের ভেতরে থাকা অসাধারণ সংহতি। বর্তমান বিজেপি/এনডিএ ভোটারদের মধ্যে ৯৩.২ শতাংশ মনে করেন বিজেপির তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা উচিত, ৯৪.৭ শতাংশ যোগী সরকারের কাজে সন্তুষ্ট, ৯৩.৩ শতাংশ পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগীকেই পছন্দ করেন এবং ৯৫.৪ শতাংশ বিশ্বাস করেন যে বিজেপি/এনডিএ-ই পরবর্তী সরকার গঠন করবে।
- সামগ্রিকভাবে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩১.২ শতাংশ) মানুষ মনে করেন যে মন্দিরের ট্রাস্টের কর্তারাই অনুদানের অর্থ চুরির জন্য দায়ী। এরপর ২০.৬ শতাংশ মনে করেন এর জন্য দায়ী কর্মী বা ঠিকাদাররা এবং ১৩.৭ শতাংশের মতে রাজ্য সরকার এর জন্য দায়ী।
- সরকারের কার্যকারিতার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বা চাকরির বিষয়টি সবচেয়ে দুর্বল দিক হিসেবে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে সন্তুষ্ট মানুষের হার মাত্র ৫৮.৩ শতাংশ। বেকার উত্তরদাতাদের মধ্যে এই অসন্তোষ আরও বেশি- তাদের মাত্র ৫০.৭ শতাংশ সন্তুষ্ট। এছাড়া ভূমিহীন ও অদক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও সন্তুষ্টির হার প্রায় ৫২-৫৩ শতাংশের মতো। এমনকি বিজেপি/এনডিএ ভোটারদের মধ্যেও কর্মসংস্থান নিয়ে সন্তুষ্টির হার ৭৪.৫ শতাংশ, যা আইন-শৃঙ্খলা, পরিকাঠামো, কল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
- এসপি-কংগ্রেস জোট বিজেপির চেয়ে বেশ পিছিয়ে থাকলেও, ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভোট তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বর্তমান অবস্থানে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০২২ সালের ভোটের তুলনায় এসপি-কংগ্রেসের সমর্থনের হার ৩.৭ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের পরিসংখ্যানের তুলনায় এটি ২.৪ শতাংশ বেশি।
