October 16, 2026, 10:23 am
নবীজি (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত মদিনার ৫ মসজিদ
Reporter Name
- Update Time : Friday, October 16, 2026
- 12 Time View
ধর্ম ডেস্ক: ইসলামের সোনালি ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী স্মৃতির এক জীবন্ত সাক্ষী সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনা। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হিজরতের পর এই নগরী হয়ে ওঠে ইসলামি সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র। মদিনার বাতাসে আজও মিশে রয়েছে নবীজি (সা.)-এর অগণিত স্মৃতি এবং সাহাবায়ে কেরামের আত্মত্যাগের সুবাস। এই পবিত্র শহরের ঐতিহাসিক মসজিদ ও স্থানগুলো মুসলিম উম্মার হৃদয়ে গভীর আবেগ ও ইমানের অনন্য স্মারক হিসেবে আজও টিকে রয়েছে। মদিনা ভ্রমণকারী ও ইসলামের ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে এসব স্থানের গুরুত্ব ও আবেদন অপরিসীম।
মদিনার অন্যতম প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনা হলো আল-জুমআ মসজিদ, যা বনি সালিম ও আল-ওয়াদি মসজিদ নামেও পরিচিত। হিজরতের সময় কুবা থেকে মদিনায় আসার পথে ‘ওয়াদিয়ে রানুনা’ নামক স্থানে অবস্থান নিয়েছিলেন মহানবী (সা.)। তিনি এই স্থানে সাহাবিদের নিয়ে ইসলামের ইতিহাসের প্রথম জুমার নামাজ আদায় করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দফায় সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে মসজিদটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন একটি সুন্দর কমপ্লেক্সে রূপ নেয়। বর্তমানে এই চত্বরে গ্রন্থাগার, কোরআন শিক্ষার মাদ্রাসা এবং নারীদের নামাজের আলাদা সুব্যবস্থা রয়েছে।
মদিনার অপর খ্যাতিমান ঐতিহাসিক স্থাপনা হলো মসজিদে কিবলাতাইন বা দুই কিবলার মসজিদ। ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলমানরা ফিলিস্তিনের বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ পড়তেন। পরবর্তীতে আল্লাহর সুনির্দিষ্ট নির্দেশে কিবলা পরিবর্তিত হয়ে মক্কার মসজিদুল হারামের দিকে নির্ধারিত হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার নির্দেশনার আলোকে সংঘটিত এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি ঘটেছিল এই মসজিদে। বাদশাহ ফাহাদের শাসনামলে আধুনিক আদলে পুনর্নির্মাণ করা এই মসজিদটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
সালাহ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত মাসাজিদুস সাবআ বা সাত মসজিদ পঞ্চম হিজরির খন্দক যুদ্ধের স্মৃতি বহন করে। যুদ্ধের সময় নবীজি ও সাহাবিরা এই অঞ্চলে অবস্থান নিয়ে প্রতিরক্ষা ও পাহারার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া আস-সাকিয়া মসজিদ এবং আতবান বিন মালিকের বাড়ি সংলগ্ন ঐতিহাসিক স্থানটিও নবীজির পদস্পর্শে ধন্য। বদর যুদ্ধের আগে নবীজি আস-সাকিয়া কূপের পাশ থেকে পানি পান করে দোয়া করেছিলেন এবং উমর ইবনুল খাত্তাবের যুগে সেখানে বৃষ্টির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়েছিল। এসব পবিত্র স্থানে গেলে সাহাবিদের আত্মত্যাগ ও ইসলামের সূচনালগ্ন ফুটিয়ে ওঠা ইতিহাস হৃদয়কে আলোড়িত করে।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


