চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান আন্দোলনের মধ্যে ক্যাম্পাসে আসার পথে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে দুই দফা হামলা এবং এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। হাটহাজারীর মদুনাঘাট ও নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় ঘটা এসব হামলায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ থাকা নতুন উপাচার্যকে পদত্যাগের জন্য আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, চুয়েটে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে অংশ নিতে নগরের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে ওঠেন চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমীরুল কুদ্দুস চৌধুরী। বাসটি হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় পৌঁছালে পথিমধ্যে সেটি থামানো হয়। পরিস্থিতি কী তা দেখার জন্য তিনি বাস থেকে নামলে একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ ও শিবির ট্যাগ দিয়ে তাকে ঘিরে ধরে জামা ও চুল ধরে টানাটানি এবং বেদম মারধর করা হয়। এমনকি জোরপূর্বক তাকে তুলে নেওয়ারও চেষ্টা চালানো হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার হস্তক্ষেপে তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
মদুনাঘাটের পর বিকালে নগরীর বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে চুয়েট শিক্ষার্থীদের বহনকারী ‘যমুনা’ নামের বাসে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় এবং বাসচালককে মারধর করা হয়।
শিক্ষার্থীদের ওপর এমন হামলা ও বাসে ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চুয়েটের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত তিন সমিতির যৌথ সভা থেকে অবিলম্বে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিচারের দাবিতে বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে মদুনাঘাট ও বহদ্দারহাটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাসে ও যাত্রাপথে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং বহিরাগত ক্যাডারদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম।
