Published on
:
2 min read
এই সময়: শহরের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে ‘আদর্শ’ এবং স্বাস্থ্যকর ও দূষণমুক্ত করে তুলতে পদক্ষেপ শুরু করল রাজ্য। চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্য নিয়মিত সাফাই এবং হাসপাতাল চত্বরের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরকে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। রাজ্যের সব শহরের হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে চিঠিতে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা। বর্জ্য ফেলার জন্যে হাসপাতাল চত্বরে একটি নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করতে বলা হয়েছে, যেখান থেকে পুরসভার কর্মীরা নিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহ করবেন। পাশাপাশি, হাসপাতালের বহির্বিভাগ–সহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যের জন্যে আলাদা আলাদা রঙের ডাস্টবিনও রাখতে হবে।
নিয়মিত বর্জ্য সাফাই এবং বর্জ্য সংগ্রহের সময়ে যাতে স্বাস্থ্যবিধি বিঘ্নিত না হয়, সে দিকে বাড়তি নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তা এবং নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং চত্বরের আগাছা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কারেও জোর দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলি দ্রুত বাস্তবায়নে স্থানীয় নোডাল অফিসারদের যোগাযোগের নম্বর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষরা তাঁদের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ করতে পারেন।
স্বাস্থ্য ভবনের একটি সূত্রের দাবি, শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব মূলত সংশ্লিষ্ট পুরসভার উপরেই বর্তায়। সেই কারণেই দ্রুত পদক্ষেপের আর্জি জানিয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অভিদীপ্ত হাজরার বক্তব্য, ‘শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে পুরোপুরি দূষণমুক্ত ও আদর্শ করে তুলতে এই ধরনের নজরদারি জরুরি। হাসপাতাল চত্বরে চিকিৎসা–বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা হলে সেখান থেকে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে, যা রোগী ও সাধারণ মানুষ, সবার পক্ষেই বিপজ্জনক। বহির্বিভাগে আলাদা রঙের ডাস্টবিনের ব্যবহার এবং বর্জ্য নিয়ম মেনে সাফাই করলে পরিবেশ দূষণও ঠেকানো সম্ভব।’
তবে শুধু নির্দেশিকা জারি করলেই চলবে না, পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়মিত তদারকি করা এবং পুরসভা ও স্বাস্থ্য দপ্তরের মধ্যে সঠিক সমন্বয় রক্ষাই আসল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন অভিদীপ্ত। পুর–দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘শহরের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে স্বাস্থ্য দপ্তরের দেওয়া প্রস্তাবগুলি অত্যন্ত ইতিবাচক। চিঠিটি গুরুত্ব সহকারেই দেখা হচ্ছে। তবে হাসপাতাল চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকার বর্জ্য অপসারণ নিয়মিতই করা হয়। বাকি প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।’
