দিল্লির কনৌট প্লেসে বিক্ষোভকারীদের পুলিশি ধরপাকড়ছবি: ANI
Published on
:
3 min read
এই সময়, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় শুরু হওয়া আন্দোলনকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) যখন গণ-আন্দোলনে পরিণত করতে চাইছে, তখন 'ইন্ডিয়া' শিবিরের অন্দরে 'দ্বিমত' তৈরি হয়েছে সিজেপির পাশে থাকা নিয়ে! এই দু'টি ইস্যু নিয়েই সিজেপির পাশাপাশি সমান্তরাল আন্দোলন শুরু করেছে অ–বিজেপি 'ইন্ডিয়া' শিবিরও। কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী শিবিরের বিক্ষোভের সাক্ষী থেকেছে দিল্লি, কিন্তু এই ইস্যুতে সিজেপি–র হাত ধরা নিয়ে মতবিরোধ তুঙ্গে।
সূত্রের দাবি, তৃণমূল (কালীঘাট শিবির), সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি এবং বাম দলগুলি সিজেপিকে পাশে চাইলেও কংগ্রেসের প্রবল আপত্তি আছে। সূত্রের দাবি, সপ্তাহ দু'য়েক আগেই দিল্লিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ওয়েনাড়ের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নিজেই দলের শীর্ষ নেতাদের বলেছেন, আগামী দিনে সিজেপি যাতে কংগ্রেসের তোলা ইস্যু হাইজ্যাক করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
জোটসূত্রের দাবি, কংগ্রেসের আপত্তির কারণেই আজ, সোমবার দিল্লিতে 'ইন্ডিয়া' শিবিরের প্রস্তাবিত সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখী মিছিল কর্মসূচিতে সিজেপি নেতৃত্বকে 'আনুষ্ঠানিক' ভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি৷ তবে সিজেপির প্রতিনিধিরা যদি দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে এই মিছিলে যোগ দেন তাহলে তাঁদের স্বাগত জানাতে পারেন 'ইন্ডিয়া'র শরিক বেশ কয়েকটি দল৷ বিরোধী শিবিরের মতপার্থক্য স্পষ্ট তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও'ব্রায়েনের কথাতেও৷ রবিবার সন্ধ্যায় মিডিয়ার সামনে ডেরেক বলেন, 'দিল্লির রাস্তায় যা দেখা যাচ্ছে, তা মোদী ও শাহ—উভয়ের জন্যই অশুভ সঙ্কেত। 'প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া'-র বাইরে থেকে পুলিশ সাংবাদিকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের জন্য এগুলি বিপজ্জনক ইঙ্গিত। ভারতের তরুণ সমাজ এবং সেইসব 'ককরোচ'দের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যারা এই আন্দোলনের সূচনা করেছে। এখন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।'
কংগ্রেসের তরফে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি৷ লোকসভায় বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী নিজের মুখে যুব সমাজ এবং ছাত্রদের আন্দোলনের প্রশংসা করলেও সিজেপি সম্পর্কে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি৷ নীরব তাঁর দলের অন্য নেতা-নেত্রীরাও৷ এই আবহে সোমবার 'ইন্ডিয়া' শিবিরের প্রস্তাবিত সুপ্রিম কোর্ট অভিযানে শেষ পর্যন্ত সিজেপির কোনও প্রতিনিধি 'দেশের যুব সমাজের প্রতিনিধি' হিসেবে যোগদান করেন কি না, সেটাই দেখার।
সূত্রের খবর, সোমবার দুপুরের পরে 'ইন্ডিয়া গেট' সংলগ্ন এলাকা থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে যাত্রা করতে পারে বিরোধীদের একটি মিছিল, অংশ নিতে পারেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব, বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–সহ জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব৷ মিছিলের শেষ পর্যায়ে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানিয়েছিল 'ইন্ডিয়া' শিবির। তবে সূত্রের খবর, সেই আবেদন খারিজ করেছেন সিজেআই৷ বিরোধীদের ই-মেলের জবাবে সিজেআই নাকি জানিয়েছেন, 'সার' বাতিলের বিষয়টি বিচারাধীন বলে এ ব্যাপারে আলোচনা করা ঠিক হবে না।
এ দিকে, রবিবার দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে একযোগেই বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেন সিজেপি এবং বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা৷ রবিবার সকালে বিক্ষোভ প্রতিহত করতে কনৌট প্লেস, জনপথ, রাইসিনা রোড, খান মার্কেটের মতো এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ করে দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ দুপুরের দিকে কনৌট প্লেসের আউটার সার্কেলের কাছে বিক্ষোভ দেখান বাম ছাত্র সংগঠন আইসা–র সদস্য–সমর্থকরা৷ শনিবারের মতো বিক্ষোভকারীদের বাসে তুলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের৷
এরই মাঝে দিল্লি পুলিশের জওয়ানদের সঙ্গে তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়েন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস৷ অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে দিল্লি পুলিশ৷ তাঁকে বাসে করে তুলে কোনও থানায় না–নিয়ে গিয়ে মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দলীয় সূত্রে অভিযোগ৷ দিল্লিতে প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া-র সামনে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-এর সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখান। সেখান থেকে অন্তত ৭০ জনকে আটক করে পুলিশ, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও ছিলেন। কনৌট প্লেস থেকে আটক করা হয় অন্তত ১০০ জনকে। দিল্লির রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ মেট্রো স্টেশনের কাছে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন আইসা সভানেত্রী নেহা বোরা৷ অভিযোগ, নেহা এবং তাঁর সতীর্থদের মোবাইল ফোন জোর করে ছিনিয়ে নিয়েছে দিল্লি পুলিশ৷
এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায়, 'দেশজুড়ে সার প্রক্রিয়ায় যে প্রায় ন'কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তার মধ্যে এক কোটি মানুষ পথে নামছেন না কেন? যে ককরোচ, আরশোলা বা ছারপোকা যা-ই বলুন না কেন, অথবা রাজনৈতিক নেতারা যাঁরা পথে নামছেন, তাঁদের ক'জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে বলুন তো? আসলে কোনও ইস্যু নেই, এ সব করে হাওয়া গরম করতে চাইছেন কেউ কেউ।'