উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সড়কের পাশে, বাড়ির আঙিনায় ও জমির আইলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে হাজার হাজার খেজুর গাছ। এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হলেও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন রেললাইনের দুই পাশের খেজুর গাছগুলো।
আত্রাইয়ের পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন থেকে উত্তরে মহাদীঘি পর্যন্ত রেললাইনের দুই পাশে থাকা প্রায় ৩০০ খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু করেছেন গাছিরা। একসময় স্থানীয় গাছিরা এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতেন। তবে বর্তমানে স্থানীয় গাছিদের তেমন দেখা না মেলায় প্রতিবছর রাজশাহীর বাঘা ও আড়ানী এবং নাটোরের লালপুর এলাকা থেকে গাছিরা এসে রস সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু লালী ও গুড়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব গুড় দেশের অন্যান্য জেলাতেও বাজারজাত করা হয়।
এ বছরও আগের ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনসহ তিনজন এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের আব্দুল ইসলামসহ দুজন গাছি রস সংগ্রহের কাজে নেমেছেন।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের গাছি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। আত্রাই রেললাইনসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ২০০ খেজুর গাছ থেকে তাঁরা রস সংগ্রহ করেন। ভোরে সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করেন লালী ও গুড়। বছরের প্রায় চার মাস তাঁরা এ কাজে নিয়োজিত থাকেন। এ সময়ের উপার্জন দিয়েই সারা বছরের সংসারের খরচ চালাতে হয় তাঁদের।
নাটোরের লালপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের গাছি আব্দুল ইসলাম বলেন, খেজুরের রস সংগ্রহ করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছাড়া এ কাজ করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে সংগৃহীত রস জ্বাল দিয়ে লালী ও গুড় তৈরি করতেও প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। পরিবারের ব্যয়ভার বহনের তাগিদে নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই তাঁরা এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, খেজুর গাছ একটি লাভজনক গাছ। পতিত জমি, রাস্তার পাশসহ বিভিন্ন স্থানে এ গাছ জন্মাতে পারে। খেজুর গাছ থেকে সুস্বাদু রস, লালী ও গুড় পাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে। তাই বেশি বেশি খেজুর গাছ রোপণ ও যথাযথ পরিচর্যা করা হলে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।
The post শীতের আগমনী বার্তা, আত্রাইয়ে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা appeared first on ভোরের চেতনা.
