প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ পিএম
নেত্রকোণায় ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় এক ব্যক্তির প্রায় দুই মাস কারাভোগের পর ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির পিতৃত্বের দাবির সঙ্গে অসংগতি পাওয়া যায়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে ওই মামলা থেকে খালাস পান কামাল উদ্দিন। পরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামে এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোণার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে লিপি আক্তারকে পাচ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৮ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা লিপি আক্তার একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় তিনি নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে দাবি করেন। পরে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করলে তাকে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয়।
লিপি আক্তারের সন্তান জন্ম নেওয়ার পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। পরে বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০১৯ সালে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেন আদালত।
এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগ করানোর অভিযোগে প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। ওই মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে মঙ্গলবার লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা।
