নির্মাণ কাজের জন্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যেতে হয় শ্রমিক পরিবারগুলিকে। পড়াশোনার সুযোগ হারায় তাঁদের সন্তানেরা। এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী বেঙ্গালুরুর দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া দিবিত।
জাহাজ পরিবহণে ব্যবহৃত কনটেনারকেই সে বদলে দিয়েছে শ্রেণিকক্ষে। নির্মাণ-শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য স্কুল তৈরির পরিকল্পনা তার। বেঙ্গালুরুর সারজাপুর-আত্তিবেলে রোডের একটি আবাসন প্রকল্পে তৈরি হচ্ছে এই স্কুল। ২০২৬ সালের শেষের দিকেই চালু হবে এই স্কুল। এমনই পরিকল্পনা ওই পড়ুয়ার।
কেমন হবে কনটেনার স্কুল?
মাত্র ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে এই স্কুল। একসঙ্গে ২০-২৫ জন পড়ুয়া পড়াশোনা করতে পারবে। ৪০ ফুট লম্বা ও ৮ ফুট চওড়া কনটেনারের ভিতরে থাকবে শ্রেণিকক্ষ, শৌচাগার। এ ছাড়া থাকবে জিনিসপত্র রাখার জায়গা। প্রয়োজনে ওই জায়গাটি বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন এমন পড়ুয়াদের জন্য ছোট শ্রেণিকক্ষ হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
তবে গ্রীষ্মপ্রধান এলাকায় ওই কনটেনারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা ছিল চ্যালেঞ্জ। সেই কারণে বিদ্যুৎ নির্ভরতা কমিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ রং এবং বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া, সৌর প্যানেল বসানোর কাজও চলছে।
কী ভাবে এল এই ভাবনা?
কয়েক বছর আগে সরকারি স্কুলে অর্থনীতি পড়ানোর সময় শ্রেণিকক্ষের ভাঙা দেওয়াল, অসম্পূর্ণ পরিকাঠামো এবং খসে পড়া রং নজরে আসে দিবিতের। পরে নির্মাণস্থলের শ্রমিক বসতিতে শিশুদের নিরাপত্তাহীন পরিবেশে দিন কাটাতে দেখে সে বিকল্প স্কুলের কথা ভাবে।
নবম শ্রেণিতে থাকাকালীন স্কুলের খেলার জায়গা নকশা করে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সম্মানও পেয়েছিল দিবিত। পরে স্বল্প খরচে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী দিয়ে খেলার জায়গা তৈরির কাজে যুক্ত হয়ে কনটেনার ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে সে।
সাফল্যের পরীক্ষা এখনও বাকি
২০১৯ সালের ইউনেস্কোর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ভারতের সাতটি শহরে নির্মাণস্থলে বসবাসকারী অভিবাসী শিশুদের প্রতি দশ জনের মধ্যে আট জনেরই শিক্ষার সুযোগ ছিল না।
দিবিতের লক্ষ্য, এই মডেল অন্য আবাসন প্রকল্পেও চালু করা। দিবিত জানিয়েছে, শিক্ষক, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিবার স্থানান্তরিত হলে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে এই উদ্যোগের বড় চ্যালেঞ্জ।
