কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পের বিকাশে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, রেলপথ ও রেলস্টেশন স্থাপন এবং বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬ উপলক্ষে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল বেলা ১১টায় খান প্যালেস অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পর্যটকদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুঁই, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক, আকন কুদ্দুসুর রহমান এবং পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক উপজেলা বিএনপির সভাপতি, স্নেহাংশু সরকার কুট্টি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী বলেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেতে পারে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কুয়াকাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।’ এ সময় বরিশাল-কুয়াকাটা সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সব কর্মকাণ্ড মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে গ্রহণ করছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমবে।’
বক্তারা আরো বলেন, ‘পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে কুয়াকাটা দেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
সভায় কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বক্তব্য দেন। সভা সঞ্চালনা করেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এবিএম মোশাররফ হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান শামীমুজ্জামান।
সভায় পটুয়াখালী, কলাপাড়া ও কুয়াকাটার সাংবাদিকরা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
