ছবি: সংগৃহীত
-->ফুটবল মানেই গোল, রোমাঞ্চ আর রেকর্ডের লড়াই। দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠিতেও রয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সেই লড়াইয়ের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। ১৯৫৬ সালে যাত্রা শুরু করা এই পুরস্কার জেতা প্রতিটি ফুটবলারের স্বপ্ন। বছরের পর বছর সেরাদের স্বীকৃতি দিয়ে আসছে এই সোনালি ট্রফি। দেশভিত্তিক হিসাবেও তাই রয়েছে দারুণ সব চমক।
ব্যালন ডি’অর জয়ের সংখ্যায় সবার ওপরে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। দুই দেশের ঝুলিতেই রয়েছে আটটি করে পুরস্কার। তবে দুই দেশের সাফল্যের গল্প একেবারেই আলাদা।
আর্জেন্টিনার আটটি পুরস্কারই জিতেছেন লিওনেল মেসি।। একক আধিপত্যের অনন্য নজির গড়েছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ফ্রান্সের সাফল্য এসেছে একাধিক প্রজন্মের ফুটবলারের হাত ধরে। মিশেল প্লাতিনি তিনবার জিতেছেন ব্যালন ডি’অর। এ ছাড়া রেমন্ড কোপা, জিনেদিন জিদান, জ্যা-পিয়ের পাপিন ও করিম বেনজেমার মতো তারকারাও এই পুরস্কার জিতেছেন। ফলে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের এই মঞ্চে ফ্রান্সের রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য।
দেশভিত্তিক তালিকায় জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসেরও রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। দুই দেশের ফুটবলাররা সাতবার করে জিতেছেন ব্যালন ডি’অর। জার্মানির হয়ে এই পুরস্কার জিতেছেন মুলার, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে ও লোথার মাথেউসের মতো কিংবদন্তিরা। তাদের সাফল্যে সমৃদ্ধ হয়েছে জার্মান ফুটবলের ইতিহাস।
নেদারল্যান্ডসের সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছেন ইয়োহান ক্রুইফ ও মার্কো ফন বাস্তেন। দুজনই তিনবার করে জিতেছেন এই পুরস্কার। একবার জিতেছেন রুড গুলিত। তাদের হাত ধরেই সাতটি ব্যালন ডি’অর ঘরে তুলেছে ডাচরা।
পর্তুগালের ঝুলিতেও রয়েছে সাতটি ব্যালন ডি’অর। এর মধ্যে পাঁচটি জিতেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বাকি দুটি এসেছে ইউসেবিও ও লুইস ফিগোর হাত ধরে। দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এই তারকারা।
ব্যালন ডি’অর জয়ের তালিকায় পাঁচটি করে পুরস্কার নিয়ে রয়েছে ব্রাজিল, ইতালি ও ইংল্যান্ড।
একনজরে সবচেয়ে বেশি ব্যালন ডি’অর জয়ী শীর্ষ দেশসমূহ-
- আর্জেন্টিনা: ৮টি (লিওনেল মেসি ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১, ২০২৩)
- ফ্রান্স: ৮টি (রেমন্ড কোপা: ১৯৫৮, মিশেল প্লাতিনি: ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৫ , জ্যঁ-পিয়ের পাপিন: ১৯৯১ , জিনেদিন জিদান: ১৯৯৮, করিম বেনজেমা: ২০২২ )
- জার্মানি: ৭টি ( মুলার: ১৯৭০, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার: ১৯৭২, ১৯৭৬, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে: ১৯৮০, ১৯৮১, লোথার মাথেউস: ১৯৯0, ম্যাথিয়াস সামের: ১৯৯৬)
- নেদারল্যান্ডস: ৭টি (ইয়োহান ক্রুইফ: ১৯৭১, ১৯৭৩, ১৯৭৪, রুদ গুলিত: ১৯৮৭, মার্কো ফন বাস্তেন: ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯২)
- পর্তুগাল: ৭টি (ইউসেবিও: ১৯৬৫, লুইস ফিগো: ২০০০,ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো: ২০০৮, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬, ২০১৭)
- ব্রাজিল: ৫টি (১৯৯৭, ২০০২, রিভালদো: ১৯৯৯, রোনালদিনহো: ২০০৫, কাকা: ২০০৭ )
- ইতালি: ৫টি (১৯৬১ ,জিয়ান্নি রিভেরা: ১৯৬৯, পাওলো রোসি: ১৯৮২, রবের্তো বাজ্জিও: ১৯৯৩, ফাবিও কানাভাতো: ২০০৬)
- ইংল্যান্ড: ৫টি ( স্ট্যানলি ম্যাথিউস:১৯৫৬ , ববি চার্লটন: ১৯৬৬ , কেভিন কিগান: ১৯৭৮, ১৯৭৯, মাইকেল ওয়েন: ২০০১)
পাপ্পু/
