সাত বছর আগে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রেহানাকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. এরশাদ আলম (জর্জ) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান ভোলার চরফ্যাশন থানার পূর্ব মাদ্রাজ খাঁ বাড়ির মো. শামসুল ইসলাম ও রোসনা বেগমের ছেলে। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগে ভাড়া বাসায় থাকতেন। এদিন রায় ঘোষণার আগে আসামিকে আদালতে আনা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার (২০১৯) প্রায় ১১ বছর আগে শরিয়ত অনুযায়ী রেহানার সঙ্গে মিজানের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে রেহানার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন মিজান। ভিক্টিমের পরিবার বিভিন্ন সময় তাকে আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার এমনকি বাড়ি নির্মাণের জন্য টিনের ঘরও তুলে দেয়।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২০ দিন আগে মিজান পুনরায় রেহানার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। পরে রেহানার ভাই বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু বাকি টাকার জন্য রেহানাকে আবারও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সকাল ৭টার আগে যেকোনো সময় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগের ভাড়া বাসায় রেহানাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন মিজান। পরদিন ২৬ জুলাই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন রেহানার বড় ভাই মো. আব্বাস।
মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত মিজানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর মিজান আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের এসআই মো. আক্কাস মিয়া আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে আদালত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
