দুধ থেকে দই, মিষ্টি, মাখন, ঘি, পনির, ছানা ও লাবানসহ বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি ও বাজারজাতকরণের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ২৫ জন সমবায়ী। তাঁদের দক্ষতা বাড়ানো এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম চলছে। এর আগে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের (পিআরটিসি) সম্মেলনকক্ষে ‘দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়।
সিভাসুর পিআরটিসি ও ডেইরি অ্যান্ড পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগ যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। সমবায় অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘দুগ্ধঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নে ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ চলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক ও প্রকল্প পরিচালক (প্রেষণে) তোফায়েল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিভাসুর ডেইরি অ্যান্ড পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল বারী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআরটিসির পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ প্রশিক্ষণার্থীদের দুধ থেকে বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য তৈরির বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রকল্পের আওতায় দুগ্ধঘাটতি এলাকায় উন্নত সংকর জাতের গাভি পালনের মাধ্যমে দুধের উৎপাদন বাড়ানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রশিক্ষণে হাটহাজারী, কুমিল্লা, চকরিয়া ও মীরসরাই অঞ্চলের দুগ্ধঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতাভুক্ত ২৫ জন সমবায় সমিতির সদস্য অংশ নিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষেত্রে আরও দক্ষতা অর্জন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের পরামর্শ দেন।
