পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজনপুর জেলার রোঝান তহসিলে সিন্ধু মহাসড়কে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে উল্টে গেছে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৪৪ জন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর পৌনে ৬টার দিকে বাংলা হেদায়েত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাসটির অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।
আহতদের মধ্যে ৩৮ জনকে রাজনপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে চারজনকে ডেরা গাজী খান এবং দুজনকে রহিম ইয়ার খানের শেখ জায়েদ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
খবর পেয়ে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ১০টি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন।
দুর্ঘটনার পর রাজনপুরের ডেপুটি কমিশনার ইমরান রাঞ্জা, জেলা পুলিশ সুপার ও সহকারী কমিশনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওমরকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) শাকিল দ্রেশাক জানান, অবহেলা ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে চালক ও বাসের মালিক পালিয়ে গেছেন বলে জানানো হয়েছিল। তবে পরে রাজনপুরের ডেপুটি কমিশনার জানান, আহত চালককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৩৫২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে এবং এসব দুর্ঘটনায় গড়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়।
এর আগে গত সোমবার মুলতানের বোসান রোডে দ্রুতগতির একটি গাড়ি ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে আগুন ধরে যায়। ওই ঘটনায় ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী পাঁচ তরুণের মৃত্যু হয়।
সূত্র: ডন
