শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত জিমে ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক ও ফিটনেস প্রশিক্ষকেরা। ওজন তোলা, স্কোয়াট ও উচ্চমাত্রার ব্যায়াম শরীরের শক্তি ও সহনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে এসব ব্যায়াম করতে গিয়ে পিঠে ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা। কখনো ব্যায়ামের পর সামান্য পেশিব্যথা দেখা দেয়, আবার কখনো এটি গুরুতর আঘাতের লক্ষণ হতে পারে।
সাধারণ পেশিব্যথা নাকি গুরুতর আঘাত?
কঠোর ব্যায়ামের পর পেশিতে ব্যথা অনুভব করা স্বাভাবিক। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ পেশির ক্লান্তিজনিত ব্যথা সাধারণত পিঠের নিচের অংশজুড়ে ছড়িয়ে থাকে। হালকা নড়াচড়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং কিছুটা বিশ্রাম নিলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এ ব্যথা কমে যায়।
তবে গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে ব্যথার ধরন আলাদা হতে পারে। ওজন তোলার সময় হঠাৎ তীব্র ব্যথা, পেশিতে কিছু ছিঁড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি কিংবা সামনের দিকে ঝুঁকলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া সাধারণ পেশিব্যথার চেয়ে গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
চিকিৎসকের সতর্কতা, এ ধরনের ব্যথাকে অবহেলা করে নিজে থেকেই সেরে যাওয়ার অপেক্ষা করলে সামান্য আঘাতও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
জিমে ব্যায়াম করার পর ব্যথা হলে অনেকেই কয়েক দিন বিশ্রাম নেন। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, নিতম্ব থেকে পা পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, অসাড়তা বা ঝিনঝিন অনুভূতি মেরুদণ্ডের স্নায়ুতে চাপ পড়ার লক্ষণ হতে পারে। হাঁটার সময় পায়ের পাতা ওপরে তুলতে দুর্বলতা অনুভব করলেও সতর্ক হতে হবে।
এ ছাড়া এক সপ্তাহের বেশি ব্যথা থাকা, সময়ের সঙ্গে ব্যথা কমার পরিবর্তে বেড়ে যাওয়া কিংবা ব্যথার কারণে রাতে ঘুমাতে না পারার মতো সমস্যা হলে শুধু বিশ্রামের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
সবচেয়ে গুরুতর সতর্কসংকেত হলো হঠাৎ মলত্যাগ বা প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ হারানো। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
কেন রোগ নির্ণয় জরুরি?
ব্যথার কারণ শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা নিলে বারবার আঘাত পাওয়া এবং ভুলভাবে ব্যায়াম করার অভ্যাস থেকে সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা এড়ানো সম্ভব। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক্স-রে ও এমআরআইয়ের মতো পরীক্ষার মাধ্যমে আঘাতের ধরন ও অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এসব পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।
তাই ব্যায়ামের পর পিঠে ব্যথা হলে তা সাধারণ পেশিব্যথা ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। ব্যথার ধরন, স্থায়িত্ব ও সঙ্গে থাকা অন্যান্য উপসর্গের দিকে খেয়াল রাখুন। গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস