বিয়ের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নববধূকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন জোর করে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন নোয়াখালীর সেনবাগের মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবক কাজী জহিরুল ইসলাম পাবেল (৩০)। স্ত্রীকে ফিরে পেতে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় পাবেলের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান পোশাক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর গ্রামের কেরামত আলী মিয়াজী বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাবেল ছাড়াও তার মা জাহানারা বেগম, চাচা মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. সুমন বক্তব্য দেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পাবেল জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর সামাজিকভাবে সানজিদা সুলতানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়েতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা উসুল ছিল। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় তাদের পরিবারের প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পাবেলের অভিযোগ, বিয়ের আগের দিন পার্লারে সাজানো এবং বিয়ের দুই দিন পর ‘পিরানি’ দেওয়ার বিষয় নিয়ে ভগ্নিপতির সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে বিয়ের পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
তিনি জানান, বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রামে বেড়াতে গেলে তারা দুজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বাড়িতে ফিরে আসার পর গত ৭ অক্টোবর তার শ্বশুর ও শাশুড়ি বাড়িতে এসে স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে দুজন সুস্থ হলে স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এর আগেই গত ৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্বশুর আবুল কালাম মুন্সির নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের বাড়িতে আসেন। পাবেলের অভিযোগ, তারা হুমকি দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন এবং জোরপূর্বক তার স্ত্রীকে নিয়ে যান।
এ সময় শয়নকক্ষের আলমারি থেকে বিয়েতে স্ত্রীকে দেওয়া প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ টাকা, প্রবাস থেকে আনা নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং মূল্যবান পোশাক নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন পাবেল।
পাবেলের ভাষ্য, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানোর পর একই দিন রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও তাদের সঙ্গে আসা অন্য ব্যক্তিরা লোহার রড, স্টিলের পাইপ ও হকিস্টিক নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বসতঘরে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ তার।
এ ঘটনায় কাজী জহিরুল ইসলাম পাবেল সেনবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে শ্বশুরবাড়ির কয়েকজনসহ একাধিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পাবেলের মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। আমার স্বামী প্রবাসে থাকেন, ছেলেও প্রবাসে থাকে। বিভিন্ন কারণে বিয়ের এক মাস পেরিয়ে গেলেও মেয়েটি তার বাবার বাড়িতে যেতে পারেনি। কিন্তু তারা যেভাবে মেয়েকে নিয়ে গেছে, আমি এর বিচার চাই।’
পাবেলের চাচা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, হলুদের অনুষ্ঠান ও বিয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মেয়েপক্ষের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। এ কারণে এক মাসেও নববধূকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো সম্ভব হয়নি। আগামী সপ্তাহে তাকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এমন হামলার ঘটনায় তারা স্তব্ধ হয়ে গেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পাবেল ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রবাসী এ যুবক।
