লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের একটি চেক জালিয়াতির মামলায় হুমায়ুন কবির হাওলাদার নামে এক আইনজীবীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। আজ রোববার বিকেলে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আজ সন্ধ্যায় আদালতের জারিকারক মো. মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হুমায়ুন কবিররের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলাটি সহকারি পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) তদন্ত করেছেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই মামলায় হুমায়ুন কবিরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।’
গ্রেপ্তার হুমায়ুন কবির হাওলাদার লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বাদীর আইনজীবী ফিরোজ আলম বলেন, ‘হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ৭ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। রোববার তিনি আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন। এতে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ মামলায় অপর আসামি পলাতক আছেন। মামলার বাদী ইউছুফ আলী। তিনি রায়পুর উপজেলার উদমারা গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী মরিয়ম বেগমের ব্যাংক হিসেবের চেক চুরির পর স্বাক্ষর জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা।’
আইনজীবী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী ইউছুফ আলীর স্ত্রী মরিয়ম অভিযুক্ত হুমায়ুন কবিরের আত্মীয় হন। মরিয়মের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে হুমায়ুন সাউথইস্ট ব্যাংক হায়দরগঞ্জ শাখার একটি চেক চুরি করে নিয়ে যান। পরে চেকটিতে ৩৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা লিখে মরিয়ম বেগমের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে পাঠান। স্বাক্ষরে অমিল দেখে ব্যাংক থেকে মরিয়মকে বিষয়টি জানানো হয়।
এতে মরিয়মের স্বামী ইউছুফ বাদী হয়ে হুমায়ুন কবির হাওলাদার ও আব্দুস শহীদ নামে দুজনের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রায়পুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সহকারী পুলিশ সুপারকে (রায়পুর সার্কেল) দায়িত্ব দেন। দীর্ঘ তদন্ত ও সিআইডির বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় চেকের স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৭ অক্টোবর আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সমিতির সভাপতি হিসেবে আদালত বিষয়টি সমঝোতার জন্য আমাকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এতে আমরা ৭ দিনের সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু বাদীপক্ষ প্রতিকার চাওয়ায় এ ঘটনায় আর সমঝোতা হয়নি।’
