উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায় হচ্ছেটা কী! দিন দুই আগে একই কেন্দ্রে ১০ হাজার ভোটারের তথ্যে গরমিলের অভিযোগ মেনে নিয়ে ৩ আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছিল উত্তরপ্রদেশ মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তর। এবার আজমগড় বিধানসভা কেন্দ্রে একইরকম ভুলভ্রান্তির অভিযোগ। এবার অভিযোগ তুলেছিল সমাজবাদী পার্টি। অখিলেশের দলের অভিযোগ ছিল, আজমগড়ের ভোটার তালিকায় একই ভোটারের নাম রয়েছে ১০ জায়গায়। অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর পাঁচ আধিকারিককে নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন।
সমাজবাদী পার্টির অভিযোগ ছিল, আজমগড় বিধানসভা কেন্দ্রে বিকাশ যাদব নামের এক ভোটারের নাম রয়েছে অন্তত ১০ জায়গায়। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই কমিশন তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তে দেখা যায়, ১০ জন নন, আজমগড়ে অন্তত ১৩ জন ভোটারের নাম বিকাশ যাদব। এঁদের মধ্যে দু’জনের নাম বিভিন্ন কারণে কাটা গিয়েছে। একজন আবার গোরক্ষপুর কেন্দ্রের ভোটার। তাঁর নামও বিকাশ যাদব। বাকি যে ১০ জনের নাম বিকাশ যাদব নামে রয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন বিকাশ যাদব। বাকিরা অন্য নামের ভোটার। কিন্তু কমিশনের আধিকারিকদের ভুলে প্রত্যেকের নাম বিকাশ যাদব হয়ে রয়েছে। এমনকী প্রত্যেকের বাবার নামও এক।
কমিশন জানিয়েছে, আসল বিকাশ যাদব বাদে বাকি ভোটারদের বলা হয়েছে ফর্ম ৮ পূরণ করে নিজেদের নাম সংশোধন করে নিতে। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বিএলও, কম্পিউটার সহায়ক আধিকারিক, এইআরও এবং ইআরও প্রত্যেককে নোটিস পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অপরাধ ইচ্ছাকৃত প্রমাণিত হল এঁদের বিরুদ্ধে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই নিয়ে গত ৩ দিনে দ্বিতীয়বার কমিশন ভোটার তালিকায় কারচুপির কথা স্বীকার করল। এর আগে পিলভিট কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ভোটারের নামের তথ্যে গরমিলের অভিযোগ স্বীকার করেছে কমিশন। কংগ্রেস দাবি করে, স্রেফ ওই কেন্দ্রেই প্রায় ১৩ হাজার ১৫০ জন ভোটারের এপিক নম্বর একই। অথচ প্রত্যেকের নাম-পরিচয় আলাদা। একই অভিযোগ করে সমাজবাদী পার্টিও। দুই দলের অভিযোগ পাওয়ার পর উত্তরপ্রদেশের সিইও দপ্তর তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আসে। দেখা যায়, শুধু পিলভিট সদর কেন্দ্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৯টি ফর্ম এইট পূরণ করে নাম বদলের আবেদন জমা পড়েছিল। সেই ভিত্তিতে ভোটারদের তথ্য সংশোধন করা হয়েছে। অথচ সেই সব সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কোনও নথি জমা পড়েনি কমিশনের কাছে। ফলে প্রায় ১০ হাজার ৪৭০ জন ভোটারের তথ্যে গরমিল ধরা পড়েছে। তড়িঘড়ি পিলভিটের দুই ইআরওকে সাসপেন্ড করে দিয়েছে কমিশন। এবং এক কম্পিউটার সহযোগীকে কাজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
