শখ করে বিষধর গোখরা সাপ পুষতেন কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন। প্রায় তিন মাস আগে মাছ ধরার জালে আটকে থাকা সাপটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। সাপটির জন্য তৈরি করেছিলেন আলাদা কাঠের বাক্স। তবে সেই শখের সাপের কামড়েই এখন হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ৪৫ বছর বয়সী ইকবাল।
শখ করে পোষা বিষধর গোখরা সাপটিকে নিয়মিত মাছ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন খাবার দিতেন তিনি। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার নিষেধ করলেও কারও কথা শোনেননি। অবশেষে সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ইকবাল হোসেন।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতো সাপটিকে খাবার দিতে কাঠের বাক্স খুলতেই তাঁকে ছোবল দেয় গোখরাটি। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের শয্যায় স্বামীর পাশে উদ্বিগ্ন অবস্থায় রয়েছেন স্ত্রী ও সন্তান।
ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, কয়েক মাস আগে বিল থেকে সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তাঁর স্বামী। সাপটি না পুষতে তাঁকে বারবার নিষেধ করেছিলেন তিনি। কিন্তু স্বামী তাঁর কথা শোনেননি। এখন সেই সাপের কামড়েই জীবন সংকটে পড়েছেন ইকবাল।
ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার ও তাঁর ভাই ইসলাম হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁকে বিষধর সাপটি না পুষতে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু শখের বশে সাপটি নিজের কাছে রাখেন তিনি। বৃহস্পতিবার সাপের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সাপটি মেরে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ইকবালের হাত ফুলে যায়। চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে বিষধর সাপের কামড়ের লক্ষণ দেখতে পান। এরপর দ্রুত অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা শুরু করা হয়। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
চিকিৎসকেরা বলছেন, বিষধর সাপে কামড়ালে ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। হাসপাতালে সরকারিভাবে বিনামূল্যে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সাবিন ইশতিয়াক এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
শখের বশে বিষধর সাপ পোষা যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, ইকবালের ঘটনা তারই উদাহরণ।
এমএ
