Published on
:
2 min read
রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণ। মুহূর্তে উৎসবের আবহেও বদলে গেল মায়ানগরীর পরিবেশ। অভিনেতার চালক-সহ আরও দু’জন আহত হন। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তাদের তরফে জানানো হয়েছে যে সলমন খানের কারণেই টাইগার শ্রফকে টার্গেট করা হয়েছে। তারা অন্যান্য তারকাদেরও একই ভাবে হুমকি দিয়েছে। সূত্রের খবর, একটি অডিয়ো ক্লিপের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়েছে ‘সলমন খানের সঙ্গে কাজ করলেই, এমন পরিণতি হবে।’ এই ঘটনার পরে টাইগার শ্রফ যেমন পুলিশি নিরাপত্তা পেয়েছেন, ঠিক তেমনই সলমন খানের বাড়ির বাইরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
টাইগার শ্রফের প্রতিদিনের গতিবিধির উপর নজর রাখা হতো বলে সূত্রের খবর। প্রতিদিনের মতো ফুটবল খেলে ফিরছিলেন টাইগার। হঠাৎ বিকট শব্দ। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিল আতশবাজির শব্দ, কিন্তু তারপরেই গুলির শব্দ শোনা যায়। পুরো ঘটনাটি এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।
ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই অনিল পণ্ডিত নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে হামলার দায় স্বীকার করে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট প্রকাশ্যে আসে। যেখানে একটি অডিয়ো ক্লিপ শোনা যায়। গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাই বলে দাবি করা এক ব্যক্তিকে হামলার দায় স্বীকার করতে শোনা গিয়েছে। একইসঙ্গে তিনি বলিউড অভিনেতা সলমন খানকেও হুমকি দেন।
আইএএনএস-এর একটি রিপোর্ট অনুসারে, পোস্টটিতে লেখা ছিল, ‘জয় মহাকাল। জয় শ্রী রাম। সকলকে নমস্কার। আজ টাইগার শ্রফের ঘটনার দায় আমি ও আমার ভাই অনিল পণ্ডিত এবং হরমন সান্ধু নিচ্ছি। আমরা তাঁকে ফোন করে সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু সে বোঝেনি। তাই, আজ আমরা তাঁকে আরও কড়া ভাষায় বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছি। মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যে কেউ আমাদের কথা না শুনলে বা সলমন খানের সঙ্গে কাজ করলে, তাঁকেও বিপদের মুখে পড়তে হবে।’
অডিয়োটিতে অনিল নামের এক ব্যক্তিকে সলমনকে হুমকি দিতে শোনা যাচ্ছে। তিনি বলেন যে, সলমান যদি লরেন্স বিষ্ণোই বা বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা না চান, তা হলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি সব দিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। টাইগার শ্রফকে গুলি করার ঘটনাটি তদন্তের জন্য মুম্বই পুলিশ ১৫টি বিশেষ দল গঠন করেছে। ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
টাইগারের সঙ্গে হওয়া ঘটনার পরেই সলমন খানের বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির পরে মহারাষ্ট্র সরকার সলমন খানকে জেড প্লাস নিরাপত্তা দিয়েছে এবং এখন তাঁর গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সলমনের বাড়িতে হামলার পরে তাঁর বাড়ির জানলা ও বারান্দায় বুলেটপ্রুফ কাচ লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর বাড়ির বাইরে ও চারপাশে হাই-টেক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।