১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত পাবনা বিসিক শিল্পনগরীতে ছয় দশকের বেশি সময়ে গড়ে উঠেছে ২০৩টি ছোট-বড় শিল্পকারখানা। প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে এসব কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার মানুষের। বছরে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার আয় হওয়া এ শিল্পনগরী জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন রয়ে গেছে পিছিয়ে। অভ্যন্তরীণ সড়কের খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা অংশে ব্যাহত হচ্ছে পণ্য পরিবহন, আর ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাওয়া ড্রেনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানি নিষ্কাশন। এতে বিপুল বিনিয়োগ ও উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিল্পোদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের।
জানা গেছে, পাবনা সদর উপজেলার শহরতলির হেমায়েতপুরে ১৯৬২ সালে প্রায় ১১০ একর জমির ওপর পাবনা বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে এর সম্প্রসারণ করা হলে বর্তমানে শিল্পনগরীটির আয়তন দাঁড়ায় ১২৬ একরে। এখানে দেশের পরিচিত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার গ্রুপসহ ছোট-বড় ২০৩টি শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পাবনাসহ বিভিন্ন জেলার প্রায় ২২ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। ফলে জেলার শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই শিল্পনগরী।
এদিকে, শিল্পনগরীর ভেতরে যানবাহন চলাচলের জন্য রয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। এসব সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় পণ্য পরিবহনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চালকদের। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সড়কের গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এতে শিল্পোদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সড়কের পাশাপাশি শিল্পনগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবস্থাও নাজুক। অনেক স্থানে ড্রেন ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। নিয়মিত পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় বৃষ্টির সময় বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে সড়কে যান চলাচল ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিল্পনগরীটিতে বিপুলসংখ্যক কারখানা ও শ্রমিকের কর্মসংস্থান থাকায় সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, এখানে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। এ বিনিয়োগ থেকে বছরে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার আয় হয়ে থাকে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। বিপুল বিনিয়োগ ও উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অভ্যন্তরীণ সড়ক, ড্রেনেজ ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।
বিসিক শিল্পনগরীর সুতা মিল মালিক কামরুল হাসান শাকিল বলেন, পাবনা বিসিক শিল্পনগরীকে আধুনিকায়কর করা হোক এটা পাবনাবাসীর দাবি। কয়েকটি সড়ক মেরামত করা হয়েছে। বাকি সড়কগুলো মেরামত করা হলে কারখানার মালিক কর্মচারীদের জন্য ভালো হবে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার সংস্কার করা হয়েছে। বাকি সড়কগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য বরাদ্দ প্রয়োজন। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের ৮৪টি শিল্পনগরী একযোগে আধুনিকায়নের জন্য সরকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলেও জানিয়েছেন পাবনা বিসিক শিল্পনগরীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তবে শিল্পনগরীর বাকি সড়কগুলোর সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত না হলে শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভোগান্তি থেকেই যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
