ঢাকা, ১৩ অক্টোবর – নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK) বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার জের ধরে সাবেক প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সকল সদস্যের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে এক বিবৃতিতে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করে ড. ইউনূসের ওপর আওয়ামী লীগ সমর্থকদের এমন আচরণকে তাদের ‘সহিংস ও সন্ত্রাসী রাজনীতির নগ্ন প্রকাশ’ হিসেবে আখ্যা দেন।
নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস বা নিউ ইয়র্ক সফরকালে সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৪টায় জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হচ্ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সাথে ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ।
বিমানবন্দর টার্মিনালের বাইরে নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আকস্মিকভাবে ড. ইউনূসের পথ রোধ করে দাঁড়ান এবং স্লোগান ও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি প্রতিকূল দেখে নিরাপত্তাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে হুইলচেয়ার ঘুরিয়ে ড. ইউনূসকে বিমানবন্দরের নিরাপদ টার্মিনালের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
রাজপথ থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ—কেন থামছে না সংঘাত?
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের বিদায় ঘটলেও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের বিতর্ক সামনে এনেছে এই ঘটনা। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্তর্জাতিক অপ্রীতিকর ঘটনার পেছনে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে:
বিদেশে আওয়ামী নেটওয়ার্কের সক্রিয়তা:
দেশে দলগত কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হলেও বিদেশে অবস্থানরত সমর্থক ও নেতাকর্মীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছে, যা বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
সাবেক অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের নিরাপত্তা ঝুঁকি:
দেশ গঠন ও গণতন্ত্র পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দেওয়া ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টারা দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সময় যে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন, নিউ ইয়র্কের ঘটনাটি তার স্পষ্ট প্রমাণ।
বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার মানসিক চাপ:
এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের মতে, জুলাই গণহত্যার বিচার ঝুলিয়ে রাখা এবং সন্ত্রাসী কাঠামোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ায় এই গোষ্ঠীগুলো সাহস পাচ্ছে।
“জনগণের কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফ্যাসিস্ট আমলের গুম, খুন ও গণহত্যার দায়ে অবিলম্বে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শেষ করা জরুরি।”— নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক, এনসিপি)।
সরকারের পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ নিউ ইয়র্কের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি, জুলাই গণহত্যার বিচার ত্বরান্বিত করে দ্রুত রায় কার্যকর করার বিষয়ে সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে চাপ বাড়ানো হচ্ছে।
বিদেশে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রনেতা ও নোবেলজয়ীর ওপর এই ধরনের আক্রমণ কি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে? এবং প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের আর কী করা উচিত? আপনার মন্তব্য কমেন্টে লিখুন।
এনএন/ ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তার তীব্র নিন্দা এনসিপির, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তার জোর দাবি নাহিদের first appeared on DesheBideshe.