দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, এ নিয়ে চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে *৩২১ জনে*। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৯২০ জন
চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত মোট হাসপাতালে ভর্তি ১,০৫,৩১৬ জন*। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৯,২০১ জন। বর্তমানে সারাদেশে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন *৫,৭১৪ জন ডেঙ্গু রোগী। গতকাল ১৩ অক্টোবর একদিনেই মৃত্যু ছিল ৯ জন এবং ভর্তি ১,৯৫৪ জন, তাতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩১৬ জন।
কেন টেস্ট কিট সহজলভ্য করা জরুরি?
বেশিরভাগ রোগী জ্বরকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর মনে করে ৩-৪ দিন পার করে দেন। NS1 পরীক্ষা ১-৩ দিনের মধ্যে না করলে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় না, তখন রোগী শক সিনড্রোমে চলে যায়। গ্রাম পর্যায়ে ও ফার্মেসিতে কিট না থাকায় এবং বেসরকারি হাসপাতালে টেস্টের দাম ৮০০-১৫০০ টাকা হওয়ায় গরিব মানুষ পরীক্ষা করাচ্ছেন না।
সরকারের কাছে ৭ দফা জনবান্ধব পরামর্শ:
১. কিটের দাম ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ:
NS1, IgM/IgG কম্বো কিটের খুচরা মূল্য সরকারিভাবে ১৫০-২০০ টাকায় বেঁধে দিতে হবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে আমদানি শুল্ক সাময়িক প্রত্যাহার করে সরকারিভাবে বাল্ক আমদানি করতে হবে।
২. উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ফ্রি টেস্ট:
প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনামূল্যে ডেঙ্গু র্যাপিড কিট সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। রোটারি ক্লাব ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ টেস্ট বুথ চালু করা যায়।
৩. ফার্মেসিকে অনুমোদন:
লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসিতে প্রশিক্ষিত ব্যক্তি দ্বারা NS1 টেস্টের অনুমোদন দিতে হবে, যেমন কোভিডের সময় দেওয়া হয়েছিল। এতে মানুষ রাত ১০টায়ও টেস্ট করাতে পারবে।
৪. সরকারি হটলাইন ও অ্যাপে রেজাল্ট এন্ট্রি:
টেস্ট করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে DGHS এর ড্যাশবোর্ডে রিপোর্ট যাবে। এতে হটস্পট এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত ফগিং করা সহজ হবে।
৫. মাইকিংয়ে টেস্টের বার্তা যোগ করা:
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত মাইকিংয়ে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নয়, এই বার্তাটিও যোগ করতে হবে: “জ্বর ১ দিনের বেশি থাকলে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ২০০ টাকায় ডেঙ্গু টেস্ট করুন”।
৬. ভুয়া কিট রোধে QR কোড:
প্রতিটি অনুমোদিত কিটে QR কোড থাকবে, স্ক্যান করলে মেয়াদ ও আমদানিকারক দেখা যাবে। ভেজাল কিট বিক্রি করলে ৩ বছরের জেল ও লাইসেন্স বাতিলের বিধান করতে হবে।
৭. স্কুল ও কলেজে স্ক্রিনিং:
সন্দেহজনক জ্বর হলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রেফার করার সিস্টেম চালু করা।
ডেঙ্গু শুধু মশা মারার বিষয় নয়, এটি দ্রুত শনাক্ত করার বিষয়। টেস্ট সহজলভ্য হলে মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। সরকার, বেসরকারি খাত ও রোটারি-লায়ন্সের মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন একসাথে কাজ করলে এই সংকট মোকাবিলা করা যাবে।
লেখক : রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, লেখক এবং রাষ্ট্রচিন্তক।
