রবিবার ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক ভারত। রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে ১৪ রানের জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করালেও ক্যারিবীয় ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কারণে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে স্বাগতিকদের। ম্যাচ শেষে ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা পুরো ম্যাচ জুড়ে দলের নির্মম ও আগ্রাসী মানসিকতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত তোলে ২২৩ রান। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলের ভিত গড়ে দেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩০ বলে ৬৯ রানের এক ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন এই ওপেনার। তবে ইনিংসের শুরুতে কিছুটা ধীরগতির সূচনা করে ভারত। প্রথম ১৪ বলে মাত্র ১৩ রান সংগ্রহ করার পাশাপাশি সাজঘরে ফিরে যান সঞ্জু স্যামসন, যিনি ৬ বল খেলে মাত্র ৩ রান করতে পেরেছিলেন। ইনিংসের শুরুতে এমন মন্থর ব্যাটিংয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে অভিষেক জানান, ক্যারিবীয় অফ স্পিনার রোস্টন চেইসের করা প্রথম ওভারে কিছুটা সময় নিতে হয়েছিল তাকে। প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ও বোলারের দক্ষতার প্রতি সম্মান জানিয়েই শুরুটা বুঝে শুনে করেছেন তিনি।
তৃতীয় ওভারের মাঝামাঝি সময়ে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন অভিষেক শর্মা। কাভার-পয়েন্টের ওপর দিয়ে দৃষ্টিনন্দন ড্রাইভে বাউন্ডারি হাঁকানোর পর চেইসের বলে পরপর দুটি ছক্কা হাঁকান এই বাঁহাতি ব্যাটার। এরপর ঈশান কিষাণকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৪০ বলেই ১০৮ রানের এক ঝোড়ো জুটি গড়ে তোলেন তারা, যা দলের বিশাল সংগ্রহে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। ঈশান কিষাণও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করে ১৮ বলে দ্রুতগতির ৩৭ রানের একটি ইনিংস খেলেন। এই দুই ব্যাটার ছোট মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ছক্কার চেয়ে চারের মার বেশি রাখলেও, এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত কৌশল ছিল না বলে জানান অভিষেক।
২২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এক পর্যায়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার দশা হলেও শেষ পর্যন্ত সফরকারীরা ভারতের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল। বিশেষ করে শমার স্প্রিংকারের অবিশ্বাস্য শটগুলো সবাইকে অবাক করে দিয়েছিল বলে স্বীকার করেন অভিষেক। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলের বিপক্ষে কখনোই নিশ্চিত করে বলা যায় না যে ম্যাচটি পকেটে চলে এসেছে। কারণ তাদের ব্যাটিং গভীরতা এবং বড় শট খেলার ক্ষমতা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই প্রতিপক্ষ পাঁচ উইকেটে ৫০ রানে ধুঁকলেও বোলারদের কোনোভাবেই একটি বলও ঢিলেঢালা করা যাবে না জেনেই মাঠে নেমেছিল দল।
ঈশান কিষাণের সঙ্গে তার চমৎকার বোঝাপড়া নিয়ে অভিষেক জানান, মাঠে নামার পর সতীর্থকে চাপমুক্ত রাখা এবং হাসিখুশি রাখাই তার মূল লক্ষ্য থাকে। আইপিএল থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে খেলার সুবাদে তাদের দুজনের মধ্যে দারুণ রসায়ন গড়ে উঠেছে। উইকেটে নেমে প্রথম দুই-তিনটি বলের বাড়তি চাপ থেকে ঈশানকে মুক্ত করে স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে সাহায্য করাই তার কাজ। কন্ডিশন বা অন্য কোনো জটিল বিষয় নিয়ে না ভেবে তারা দুজন সবসময় একে অপরের ব্যাটিং উপভোগ করেন এবং উইকেটে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে পারফর্ম করেন।
