প্রথম উড্ডয়ন শেষ করল এয়ারবাসের মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
ইউ৭৪০ ভালকিরি
-->ক্রাটোসের তৈরি এক্সকিউ-৫৮এ ভালকিরি-ভিত্তিক মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান ইউ৭৪০ ভালকিরি ইউরোপে প্রথমবারের মতো সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে এয়ারবাস। উত্তর ইউরোপের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিচালিত এই পরীক্ষায় বিমানটি নির্ধারিত সব লক্ষ্য পূরণ করেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) এয়ারবাস জানায়, এয়ারবাস ও ক্রাটোসের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের মধ্যে জার্মানি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যুদ্ধ-প্রস্তুত সহযোগী যুদ্ধবিমান (সিসিএ) সরবরাহ করা।
বিমানটিতে এয়ারবাসের তৈরি মার্স (MARS) নামের একটি মিশন সিস্টেম ব্যবহার করা হবে।
আরও পড়ুন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর এই ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিশন পরিচালনা এবং একাধিক বিমানের মধ্যে সমন্বয় করতে পারবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে মানুষের তত্ত্বাবধান থাকবে।
ইউ৭৪০-এর দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ১ মিটার, ডানার বিস্তার ৮ দশমিক ২ মিটার এবং পাল্লা ৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি। এটি সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে পারে এবং অভ্যন্তরীণ ও ডানার নিচের অস্ত্র বহনব্যবস্থার মাধ্যমে অস্ত্র পরিবহন করতে সক্ষম।
আরও পড়ুন
২০২৯ সালের মধ্যে চালকবিহীন যুদ্ধবিমান সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জার্মানি। এই কর্মসূচিতে ভালকিরির পাশাপাশি রাইনমেটাল ও বোয়িং অস্ট্রেলিয়ার এমকিউ-২৮ ঘোস্ট ব্যাট-ভিত্তিক প্রস্তাবও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সূত্র: অ্যারোটাইম
অমিয়/
আরও পড়ুন
অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড
-->২০২৬ সালে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার নীতির ব্যষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণা করে।
নতুন এই সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল কার্যকর স্থিতিশীলতা নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এসব মডেলের ভিত্তিতে সময়োপযোগী রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতির উত্থান-পতন কমানো সম্ভব।
আরও পড়ুন
অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পর্যায়ক্রমিক উত্থান-পতন। প্রায় এক শতাব্দী আগে অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস তার তত্ত্ব উপস্থাপনের পর থেকেই অর্থনৈতিক ওঠানামা মোকাবিলায় স্থিতিশীলতা নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
অর্থনৈতিক মন্দার সময় সুদের হার কমানো এবং সরকারি বাজেট ঘাটতি বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করা হয়।
আরও পড়ুন
অন্যদিকে, অর্থনীতি অতিরিক্ত গতিশীল হয়ে উঠলে তার গতি নিয়ন্ত্রণে বিপরীতধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তবে ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটের সময় কেইনসীয় মডেলগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কখন ও কীভাবে অর্থনৈতিক নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নির্ধারণে এসব মডেল প্রত্যাশিত ফল দিতে পারছিল না। বেকারত্ব কমানোর পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতির সমস্যায় পড়ে। ফলে পশ্চিমা দেশগুলো প্রায় এক দশক ধরে নিম্ন প্রবৃদ্ধি, উচ্চ বেকারত্ব ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।
এ পরিস্থিতিতে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, স্থিতিশীলতা নীতি উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করছে এবং এ নীতি পরিত্যাগ করা উচিত।
এমন প্রেক্ষাপটে স্থিতিশীলতা নীতিকে আরও কার্যকর করে তুলতে অর্থনৈতিক মডেলগুলো কীভাবে পুনর্গঠন করা যায়, তা দেখানোর স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ডকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি, উৎপাদন ও ভোগের মতো সামষ্টিক অর্থনৈতিক চলকগুলোর মধ্যকার পরিসংখ্যানগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর না করে তারা এসব মডেলকে ব্যষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন।
তাদের গবেষণায় ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত কীভাবে সামগ্রিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে, তা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এই মডেলগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সঞ্চয়, ভোগ ও পণ্যের মূল্য নির্ধারণের মতো সিদ্ধান্ত নেয়।
সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন তাদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতির পরিকল্পনা ঘোষণা করে, তখন তা পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। এর মাধ্যমে অর্থনীতিকে কাঙ্ক্ষিত পথে পরিচালিত করাও সম্ভব হয়।
নতুন এই মডেলগুলো অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এগুলো নীতিনির্ধারকদের বিশ্লেষণী সক্ষমতা বাড়িয়েছে। সূত্র: নোবেল প্রাইজ
অমিয়/
আরও পড়ুন
খাইবার পাখতুনখোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ ৮ নেতা পুলিশ হেফাজতে
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিসহ পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) অন্তত আট নেতাকে পুলিশের সুরক্ষামূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তালাল চৌধুরী বলেন, রোববার তাদের আটক করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই, তাদের মুক্তি দেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, হেফাজতে থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন খাইবার পাখতুনখোয়া বিধানসভার স্পিকার বাবর সেলিম সোয়াতি এবং পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সভাপতি জুনাইদ আকবর।
আরও পড়ুন
এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি বলেছেন, প্রদেশের উপদেষ্টা পরিষদের কাছে নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। তিনি আশ্বাস দেন, প্রাদেশিক প্রশাসন পুলিশের দাবিগুলো পূরণ করবে এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
ফেডারেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্বকালে গভর্নর বলেন, আমরা উন্নয়নের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে পারি, কিন্তু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো আপস নয়।
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, রাজ্য পরিষদের ওপর আস্থা রেখে সরকার তাদের দিনরাত কাজ করে বাস্তব ফলাফল অর্জনের দায়িত্ব দিয়েছে।
গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি বলেন, খাইবার পাখতুনখোয়ার জনগণ শান্তি ও সমৃদ্ধি চায়। তার মতে, প্রদেশটির বাসিন্দারা অন্য প্রদেশে ভ্রমণ করে সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন।
তিনি আরও জানান, খাইবার পাখতুনখোয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ একমত। এ লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত পদক্ষেপের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেন, সরকার নিরাপত্তা বাহিনীকে যথাযথ নেতৃত্ব দিলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া সম্ভব। এ জন্য পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উপদেষ্টা পরিষদকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সূত্র: জিও নিউজ
অমিয়/
আরও পড়ুন
করাচিতে ১৪৪ ধারা জারি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->জনসাধারণের দুর্ভোগ এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের করাচি শহরজুড়ে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) করাচির কমিশনার সৈয়দ হাসান নকভি এক নির্দেশনার মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
ফোজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুযায়ী, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে র্যালি, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি এবং জনসমক্ষে অস্ত্র প্রদর্শনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ক্ষমতা রাখে।
আরও পড়ুন
কমিশনারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, মোড় ও গোলচত্বরগুলোতে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, যার ফলে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, জরুরি পরিষেবার যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং হাসপাতালে যাতায়াতের পথ রুদ্ধ হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে করাচি বিভাগীয় সীমানার ভেতরে পাঁচজনের বেশি মানুষের জনসমাবেশ, বিক্ষোভ, র্যালি ও অবস্থান কর্মসূচির ওপর ১৪৪ ধারা জারির অনুরোধ জানানো হয়।
আরও পড়ুন
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, এ ধরনের গণজমায়েত ও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলে তা সাধারণ নাগরিক এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে স্তব্ধ করে দিতে পারে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে শহরের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে পারে।
তাই সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তি সুরক্ষা এবং জরুরি পরিষেবার নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত করাচিতে পাঁচজনের বেশি মানুষের অংশ নেওয়া যেকোনো সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রসেসন বা অবস্থান কর্মসূচি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সূত্র: ডন
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং চাকরিচ্যুত জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কংগ্রেস সাংসদ অংগোমচা বিমল আকোইজামকে রক্ষা করার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
মণিপুরের এই সাংসদ গত সপ্তাহে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের দায়ে জেএনইউ থেকে চাকরিচ্যুত হন। তবে ওই আইনপ্রণেতা নিজের বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন
দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে বিজেপি নেতারা আকোইজাম এবং লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে মার্কস ফর সেক্স বা অনৈতিক সুবিধা দাবির মতো স্লোগান লেখা ছিল।
বিজেপি সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ প্রশ্ন তোলেন, রাহুল গান্ধীর এই বধিরতার মতো নীরবতার অর্থ কী? কংগ্রেসের এই ক্ষমতাসীন সাংসদের বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
আরও পড়ুন
আরেক বিজেপি সাংসদ তরুণ চুগ অভিযোগ করেন, আকোইজাম কংগ্রেস নেতাদের কোলে বসে আছেন। ১১ জন ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেছে এমন একজন ব্যক্তিকে কংগ্রেস কেন আড়াল করছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
২০২৪ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দলটির মুখপাত্র রাধিকা খেরা বলেন, ‘কংগ্রেস দ্বিমুখী নীতি বজায় রাখতে পারে না। রাহুল গান্ধীকে অবশ্যই এই বিষয়ে মুখ খুলতে হবে এবং কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
জেএনইউর স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সের সোশ্যাল সিস্টেম স্টাডিজ সেন্টারের অধ্যাপক অংগোমচা বিমল আকোইজামের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত শেষে গত ৯ অক্টোবর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ডেটিং ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে অন্তত ১১ জন ছাত্রী ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি মিটিং বা একত্রিত হওয়ার অজুহাতে ছাত্রীদের ক্যাম্পাসের বাসভবনে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করতেন। এছাড়া ক্লাসেও তিনি আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করতেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ছাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাদের কাছে জানতে চাইতেন ‘তোমার কি বয়ফ্রেন্ড আছে? বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে কী কী করো? পরকীয়া বা অ্যাফেয়ার্স সম্পর্কে তোমার মতামত কী? আমার বয়সি কেউ তোমার বয়সি কাউকে পছন্দ করলে সে বিষয়ে তোমার কী মত?’
এমনকি ‘কুইকি’ শব্দের অর্থ জানতে চেয়ে তিনি হাত নেড়ে অত্যন্ত অশালীন অঙ্গভঙ্গিতে তার ব্যাখ্যাও দিতেন।
জেএনইউর অভ্যন্তরীণ কমিটি এক বিস্তৃত তদন্তের পর ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ, অবাঞ্ছিত শারীরিক সংস্পর্শ, অপ্রয়োজনীয় সান্নিধ্য এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পেশাদার মর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণের সত্যতা পায়।
এদিকে নিজের বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি উইচ হান্ট বা প্রতিপক্ষকে দমনের চক্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সাংসদ আকোইজাম।
গত ৯ অক্টোবর তিনি দাবি করেন, তদন্ত কমিটির কোনো রিপোর্ট বা বরখাস্তের চিঠি তিনি পাননি। যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন সঠিকভাবে মানা হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি।’
নম্বরের বিনিময়ে যৌনতা বা অনৈতিক সুবিধার অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘কারও সাহস থাকলে রিপোর্ট বা অন্য কোথাও এমন প্রমাণ দেখিয়ে দিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘মণিপুরের জনগণকে কেউ স্তব্ধ করতে পারবে না। জনগণ আমাকে ম্যান্ডেট দিয়েছে, আমি তাদেরই কণ্ঠস্বর।’
এদিকে সোমবারই দিল্লির পুলিশ এই কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যৌন নিপীড়ন এবং নারীর শালীনতাহানির মামলা করেছে। সূত্র: এনডিটিভি
তামান্না রুপা/
