শুল্ক কর্মকর্তারা প্লাস্টিকের খাবারের বাক্স, শ্যাম্পুর বোতল, প্রসাধনীর জার এবং গোল করে রাখা মোজার ভেতর থেকে অনেক সাপ উদ্ধার করেন।
জার্মানির কোলন বন বিমানবন্দরে এক যাত্রীর স্যুটকেস থেকে ৩৭ টি বিষাক্ত সাপ ও ৫৫ টি গিরগিটি উদ্ধার করেছেন শুল্ক কর্মকর্তারা।
শুল্ক কর্মকর্তারা জানান, ৪৫ বছর বয়সী এক মেক্সিকান অগ্নিনির্বাপণকর্মী বিমানবন্দরের নির্ধারিত সবুজ পথ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তাকে বিচলিত দেখাচ্ছিল। এতে সন্দেহ হওয়ায় কর্মকর্তারা তার ওপর মাদক শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালান।
পরীক্ষায় কোকেনের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর তার স্যুটকেসে তল্লাশি চালানো হয়। তবে স্যুটকেসে কোনও মাদক পাওয়া যায়নি। বরং এর বদলে পাওয়া যায় ওই বিষধর সাপ এবং গিরগিটিগুলো।
কর্মকর্তারা প্লাস্টিকের খাবারের বাক্স, শ্যাম্পুর বোতল, প্রসাধনীর জার এবং গোল করে রাখা মোজার ভেতর থেকে অনেকগুলো সাপ উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর মধ্যে ভাইপার, র্যাটেলস্নেক ও ইগুয়ানাও আছে।
কোলোন কাস্টমস কার্যালয়ের মুখপাত্র জেন্স আহল্যান্ড বলেন, “বিমানবন্দরে আমার সহকর্মীরা স্যুটকেসে নানা ধরনের ভ্রমণের স্মৃতিচিহ্ন দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু মেক্সিকো থেকে আনা ৩৭টি জীবন্ত বিষাক্ত সাপ এবং ৫৫টি গিরগিটি আমরা আগে কখনও দেখিনি।”
প্রাণীগুলোকে যেভাবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল আহল্যান্ড তার তীব্র নিন্দা জানান। প্রাণী এভাবে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতিকে তিনি ‘অমানবিক’ বলে উল্লেখ করেন।
প্রাণীগুলোকে আবদ্ধ অবস্থায় রাখার ফলে বাতাসের অভাবে যাত্রাপথে বা উদ্ধারের পরপরই সেগুলোর কয়েক ডজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’-এর খবরে।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই যাত্রী বলেছেন, ব্রাজিলের পরিচিত একজনের অনুরোধ রাখতে গিয়ে তিনি প্রাণীগুলোকে ইউরোপে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
জার্মানির সীমান্ত কর্তৃপক্ষ ওই যাত্রীকে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ফলে তাকে জার্মানিতে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠানো হয়। বেঁচে যাওয়া সাপগুলোকে জার্মানির একটি সাপের খামারে পরিচর্যায় রাখা হয়েছে।
জার্মানির ফ্লাইট সংযোগ বিমানবন্দরগুলোতে বন্য প্রাণী পাচার বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোলোন বন বিমানবন্দরে এর আগেও বন্য প্রাণী পাচারের এমন চেষ্টা দেখা গেছে।
ছয় বছর আগে একই বিমানবন্দরে শুল্ক কর্মকর্তারা ২৬টি বিরল মেক্সিকান সাপ উদ্ধার করেছিলেন, যার মধ্যে ১০টিই মারা গিয়েছিল। জার্মানির বিভিন্ন ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে খেলনা ও মিষ্টির মোড়কে লুকিয়ে পার্সেলের মাধ্যমে প্রাণীগুলো পাঠানো হচ্ছিল।
গত এক বছরে জার্মানিতে ১,৩০০টি আলাদা কাস্টমস অভিযানে সব মিলিয়ে ৫৬,৬০০টির বেশি সংরক্ষিত প্রাণী, উদ্ভিদ এবং সেগুলো থেকে তৈরি জিনিস জব্দ করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
