সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। আর দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি নেওয়া হবে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ৫০ নম্বর এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ নীতিমালা প্রকাশ করে।
প্রথম শ্রেণিতে লটারি : নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। এ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে দিতে পারবে। তবে দ্বৈত পালার বিদ্যালয়ে উভয় পালা পছন্দ করলে দুটি বিদ্যালয়ে পছন্দক্রম
দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হবে। একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন করলে সব আবেদন বাতিল করা হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। ভর্তি কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে লটারি অনুষ্ঠিত হবে। এ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লটারিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমানসংখ্যক অপেক্ষমাণ তালিকাও প্রস্তুত করতে হবে। ভর্তি কমিটির নির্ধারিত তারিখে নির্বাচিত কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।
দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা : নীতিমালা অনুযায়ী, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষা নিয়ে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমানসংখ্যক অপেক্ষমাণ তালিকা প্রস্তুত রাখতে হবে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি কমিটির নির্ধারিত তারিখে ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
ভর্তি পরীক্ষার নম্বর ও সময় : নীতিমালায় দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার জন্য ৫০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা।
অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের। এর মধ্যে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। এ পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুই ঘণ্টা।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ের শূন্য আসনের সংখ্যা উল্লেখ করে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবেন। পাশাপাশি ভর্তি কমিটি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ভর্তির তথ্য ব্যাপকভাবে প্রচারের ব্যবস্থা নেবে।
