জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়ালার আরও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর আদালত এ মামলায় দিলীপ কুমার আগারওয়ালার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রিমান্ড শেষে তাকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মিয়া।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, দিলীপ কুমার আগারওয়ালার পক্ষে আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুল, আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপনসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১৯ অক্টোবর মানি লন্ডারিং আইনের একটি মামলায় দিলীপ কুমার আগারওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার বিবরণে জানা যায়— জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানার আওতাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তিনি বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ওই দিন মধ্যরাতে রাজধানীর গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালায় র্যাব।
পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামের এক কিশোরকে হত্যার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি রিমান্ডেও নেওয়া হয়। এসব মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।
