চট্টগ্রামের বায়েজিদে কিষোয়ান গ্রুপের কারখানায় (ইউনাইটেড ফ্লাওয়ার মিল) যৌথ অভিযানে জব্দ করা ২ হাজার ৪০১ বস্তা সরকারি গমের মধ্যে ১ হাজার ৬৮১ বস্তারই কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেনি মালিকপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৭২০ বস্তা গমের স্বপক্ষে বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পেরেছে।
এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত সাইলো থেকে বের হওয়া এসব সরকারি গম যাওয়ার কথা ছিল পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির স্থানীয় খাদ্য গুদামে (এলএসডি); কিন্তু সংশ্লিষ্ট সরকারি গুদামে পৌঁছার আগেই অসাধু চক্র গমগুলো বাইরে বিক্রি করে দেয়; যা কিষোয়ান গ্রুপ কিনে নিয়ে নিজেদের কারখানায় মজুত করে বলে খাদ্য বিভাগের সূত্রে জানা গেছে। ফলে এসব গম সরকারের কাছে চোরাই হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১০ অক্টোবর বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ এলাকায় সরকারি গমবোঝাই একটি ট্রাক আটক করে জনতা। এ সময় আরেকটি গমবাহী ট্রাক পালিয়ে যায়। এরপর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, খাদ্য বিভাগ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) যৌথভাবে কিষোয়ানের ইউনাইটেড ফ্লাওয়ার মিলে অভিযান পরিচালনা করে। সাইলো থেকে বের হওয়া ট্রাকটি কারখানায় গিয়ে গম খালাস করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এ অভিযান চালানো হয়।
পার্বত্য জেলার জন্য বরাদ্দ গম বেসরকারি কারখানায় নেওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় কারখানাটিতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত বস্তাভর্তি বিপুল পরিমাণ গম দেখে হতবাক হয়ে পড়েন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সন্দেহাতীতভাবে অবৈধ মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ২ হাজার ৪০১ বস্তা সরকারি গম জব্দ করা হয়। জব্দকৃত গমের বৈধ কাগজপত্র দেখানোর জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষকে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় তাদের জমা দেওয়া কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ৭২০ বস্তা গমের বৈধতা পায়; কিন্তু বাকি ১ হাজার ৬৮১ বস্তার কোনো বৈধ কাগজ তারা দেখাতে পারেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার যেন কেউ নেই। বিভাগটি আন্তরিক হলে কারা সরকারি গম বাইরে বিক্রি করেছে, তা চিহ্নিত করা কঠিন কিছু নয়। সরকারি সাইলো ও সংশ্লিষ্ট ফ্লাওয়ার মিলে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তবে গত ৯ অক্টোবর পতেঙ্গা সাইলো থেকে গমবাহী ট্রাক বের হওয়ার সময় সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঘটনাটিকে অত্যন্ত রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি বেসরকারি গুদাম থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ৫৭৮ টন সরকারি চাল জব্দ করেছিল র্যাব-৭। ওই সময় আবদুল আজিজ নামে একজনকে আটক করা হয়। একই ব্যক্তিকে ২০১৭ সালেও ডবলমুরিং থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল।
সাইলোতে ঘটনার রাতের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ উধাও
ঘটনার রাতে (৯ অক্টোবর) সাইলোর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। ঘটনার আগের ও পরের দিনগুলোতে সরকারি গমবাহী ট্রাক প্রবেশ ও বের হওয়ার ফুটেজ থাকলেও ওই নির্দিষ্ট রাতের কোনো ফুটেজ দেখাতে পারেনি সাইলো কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে সাইলোর নিরাপত্তা কর্মকর্তা মর্জিনা বেগম যুগান্তরকে বলেন, ‘৯ অক্টোবর রাত থেকে সাইলোর প্রধান গেটের সিসি ক্যামেরা নষ্ট ছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিএম ফারুক হোসেন পাটওয়ারী যুগান্তরকে জানান, সরকারি কাজে আমি বর্তমানে চাঁদপুরে রয়েছি। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে আমার কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এখনো বিস্তারিত দেখার সুযোগ হয়নি। প্রতিবেদন দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।