আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজ শুরু করছে ভারত। তবে সিরিজ শুরুর আগে টিম ইন্ডিয়াকে ভাবাচ্ছে ক্লান্তি। পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা প্রস্তুতির সুযোগ পায়নি শ্রেয়স আইয়ারের দল। ১৮ অক্টোবর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজ শেষ করার মাত্র দু’দিন পরই নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয় ভারতীয় দল। ক্রাইস্টচার্চে প্রথম ম্যাচের আগে হাতে ছিল মাত্র দু'টি অনুশীলন সেশন। তবে এই নিয়ে বেশি ভাবতে চান না ভারত অধিনায়ক। ম্যাচের আগের দিন শ্রেয়স বলেন, 'আমরা কম ঘুমোচ্ছি। তবে আমাদের জন্য যত বেশি ম্যাচ, ততই ভাল।'
শ্রেয়সের কথাতেই স্পষ্ট, ঠাসা সূচির চাপে রয়েছে ভারত। ২০২৬ আইপিএলের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ২১টি টি-২০ খেলেছে ভারত। টেস্ট খেলিয়ে দেশগুলোর মধ্যে যা সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবার ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে মুখোমুখি হবে দুই দল। ভারতীয় সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচ। ভারতে খেলা দেখা যাবে সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কে। সরাসরি সম্প্রচার হবে SonyLIV-এ। শ্রেয়সের নেতৃত্বে ভারতের যাত্রা মিশ্র ফলাফলে ভরা। আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড সফরে হারের পর ঘরের মাঠে আফগানিস্তানকে হারিয়েছে ভারত। এরপর এশিয়ান গেমসে সোনা ধরে রাখে। সেখান থেকে দেশে ফিরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টানা পাঁচটি টি-২০।
আইপিএলের পর জুনে আয়ারল্যান্ডে দু'টি টি-২০ খেলেছে ভারত। জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ। এরপর গত দু'মাসে আরও ১১টি টি-২০ খেলেছে। ফলে একাধিক ক্রিকেটারকে একইসঙ্গে বিভিন্ন ফরম্যাটের দায়িত্বও সামলাতে হয়েছে। শ্রেয়স বলেন, 'জাপান থেকে ভারত, ভারত থেকে নিউজিল্যান্ড, আমরা টানা খেলেই চলেছি। এখন আমরা এতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। এই রুটিনটাই আমাদের সিস্টেমে ঢুকে গিয়েছে। ঘুম কম হচ্ছে, কিন্তু যত বেশি ম্যাচ খেলব, ততই আমাদের জন্য ভাল।' তবে এবার চ্যালেঞ্জটা আলাদা। অপরিচিত পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই ভারতের সামনে বড় পরীক্ষা। আয়ারল্যান্ডে ০-২ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর ইংল্যান্ড সফরেও জয় পায়নি ভারত। যদিও পরে আফগানিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে দাপট দেখিয়েছে।
নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারও ম্যাচের আগে সতর্ক করেছেন ভারতকে। তাঁর মতে, ক্রাইস্টচার্চে ঠান্ডা এবং জোরালো হাওয়া সমস্যায় ফেলতে পারে ভারতীয়দের।স্যান্টনার বলেন, 'ঠান্ডা, বাউন্স এবং বলের মুভমেন্টের মতো অপরিচিত পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। ভারতে খেলতে গিয়ে প্রচণ্ড গরম এবং আর্দ্রতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমাদেরও সময় লেগেছিল। এখানেও তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। রাতে ঠান্ডার সঙ্গে হাওয়াও থাকতে পারে।' স্থানীয় সময় রাত আটটায় ম্যাচ শুরু হওয়ায় শিশিরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ফলে টসও বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।
ব্যাটিংয়েও দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে ভারতকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ব্যাটিংয়ের জন্য আদর্শ পিচে ২০০-র বেশি রান প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছিল। নিউজিল্যান্ডে সেই সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। সেখানে টি-২০ তে শেষ ১৬ ইনিংসে ২০০ বা তার বেশি রান ওঠেনি। তবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের সামগ্রিক টি-২০ রেকর্ড অবশ্য ভাল। ৩১ ম্যাচে ভারত জিতেছে ১৯টি, হেরেছে ১১টিতে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও সাম্প্রতিক সাফল্য রয়েছে ভারতের। ২০২০ সালে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৫-০ জয়ের পর, ২০২২ সালে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া।দুই দল শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে। আহমেদাবাদে ভারত ২৫৫ রান করার পর নিউজিল্যান্ডকে ১৫৯ রানে অলআউট করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
এই সিরিজে নজর থাকবে ভুবনেশ্বর কুমারের দিকেও। প্রায় চার বছর পর গত সপ্তাহে বেঙ্গালুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পঞ্চম টি-২০ তে ভারতীয় দলে ফিরেছিলেন অভিজ্ঞ পেসার। কিন্তু বৃষ্টিতে সেই ম্যাচ ভেস্তে যায়। চোট সারিয়ে ফিরছেন বরুণ চক্রবর্তীরও। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে চোট পাওয়ার পর এই প্রথম ভারতীয় দলে ফিরেছেন তিনি। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনও বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে। ১৫ বছরের ওপেনার ইংল্যান্ড সফরে টি-২০ অভিষেক করেছিলেন। এরপর এশিয়ান গেমসেও খেলেছেন। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে একটিও ম্যাচে সুযোগ পাননি। শ্রেয়স বুধবারই ইঙ্গিত দিয়েছেন, আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হতে পারে বৈভবকে। ফলে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ভারতের ওপেনিংয়ে সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মার জুটিই থাকার সম্ভাবনা বেশি।
প্রশ্ন উঠছে নমান ধীরকে নিয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে নজর কাড়ার পাশাপাশি অফস্পিনেও কার্যকর কয়েক ওভার করেছেন তিনি। ফলে তাঁকে দলে রাখা হবে, নাকি অন্য কম্বিনেশনে যাবে টিম ম্যানেজমেন্ট, সেটাও দেখার। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে শিবম দুবে এবং নীতিশ কুমার রেড্ডিকে খেলানো হতে পারে। তাতে পেস বোলিংয়ের বিকল্প বাড়ানোর পাশাপাশি, বরুণ চক্রবর্তীকেও দলে রাখা সম্ভব হবে। ঠাসা সূচি, ক্লান্তি এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন কন্ডিশন, সব মিলিয়ে ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বড় পরীক্ষার মুখে ভারত।
