অসুস্থ মেয়েকে চিকিৎসার জন্য আগামী সপ্তাহে ঢাকায় নেওয়ার কথা ছিল। সে জন্য ৫০ হাজার টাকা জমিয়েও রেখেছিলেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশের জহির উদ্দিন। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে আগুনে পুড়েছে তাঁর ঘর, সেই টাকাসহ শেষ সম্বল। একই আগুনে পুড়েছে তাঁর বাবা ও ভাইয়ের বসতঘরও।
শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের মুন্সিভিটা এলাকার সামশুল ইসলামের বাড়িতে এ আগুন লাগে।
আগুনে সামশুল ইসলাম এবং তাঁর দুই ছেলে মহিউদ্দিন ও জহির উদ্দিনের বসতঘর পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের দাবি, সব মিলিয়ে তাঁদের ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
জহির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সবাই মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। এ সময় ঘরের বাইরে আমার স্ত্রী রান্না করছিলেন। হঠাৎ ঘরে আগুন ধরে সবকিছু মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, অসুস্থ মেয়েকে চিকিৎসার জন্য আগামী সপ্তাহে ঢাকায় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এ জন্য ঘরে ৫০ হাজার টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন। আগুনে সেই টাকাসহ ঘরের সবকিছু পুড়ে গেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনে সামশুল ইসলামের পাঁচ হাজার টাকা, মহিউদ্দিনের ৩০ হাজার টাকা এবং জহির উদ্দিনের ৫০ হাজার টাকা পুড়ে গেছে। এ ছাড়া দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। তাঁদের একটি গরুও আগুনে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে।
আগুন লাগার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগুনে বসতঘরের প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করা হয়েছে। নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে জানা যাবে।
The post মেয়েকে ঢাকায় নেওয়ার টাকা জমিয়েছিলেন, আগুনে পুড়ল সব appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
