মুম্বাইয়ের জুহুতে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর একটি অডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রতিনিধি দাবি করা এক ব্যক্তি ওই বার্তায় হামলার দায় স্বীকার করেছেন এবং সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা কলাকুশলীদের হুমকি দিয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যায় জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তার গাড়িচালক ও এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, একটি মোটরসাইকেলে তিন দুষ্কৃতকারী এ ঘটনায় অংশ নেয়। একটি ফুটবল মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তার গাড়িচালকের হাতে গুলি লাগে। হামলাকারীদের পরিচয়, উদ্দেশ্য ও ঘটনার সার্বিক দিক খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার পরপরই ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপে অনিল পণ্ডিত পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি দাবি করেন, টাইগার শ্রফ গ্যাংয়ের নির্দেশ অমান্য করে সালমান খানের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তাই তাকে টার্গেট করা হয়েছিল।
অডিও বার্তায় ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যারা আমাদের তোয়াক্কা না করে আলাদাভাবে কাজ করবে কিংবা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবে, আমরা তাদের মেরে ফেলব। এটি আমাদের প্রথম এবং শেষ সতর্কবার্তা।”
বার্তায় আরও বলা হয়, “আমরা তাকে ফোন করে বুঝিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি বোঝেননি; তাই আজ আমরা তাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিলাম।”
বর্তমানে গুজরাটের কারাগারে বন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এর আগেও বহুবার সালমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। ১৯৯৮ সালের কালো হরিণ শিকারের ঘটনার জেরে বিষ্ণোই সম্প্রদায় ক্ষুব্ধ-এই কারণ দেখিয়ে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের প্রধান ১০ জনের তালিকার শীর্ষে সালমান খান রয়েছেন বলে ২০২৩ সালে জানিয়েছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দাবি, সালমান খান ক্ষমা না চাইলে তার পরিবারের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, এমনকি তাদের পোষা কুকুরগুলোকেও নয়।
এদিকে গুলিবর্ষণের ঘটনার বিস্তারিত জানতে মুম্বাই পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস। তদন্তের গতি ত্বরান্বিত করতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিআলো/শিলি