নদিয়া জেলার শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী বামাকালীর বিসর্জন শোভাযাত্রার দেখতে ফি বছর প্রচুর ভিড় হয়। কালীপুজোর পরদিন শান্তিপুরে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এ বার সেই ভিড় এড়াতে চাইছে শান্তিপুরের বামাকালী পুজো কমিটি। কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট কাণ্ডের প্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নাচের স্থান পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বছরেও শান্তিপুরের বড়বাজার ঘাট চৌরাস্তার মোড়ে ভক্তদের ভিড়ের মধ্যেই এলোকেশী প্রতিমা কাঁধে তুলে নাচানো হয়েছিল। কিন্তু এ বার চৌরাস্তার মোড় থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে বেজপাড়ার ফাঁকা মাঠে প্রাতিমা কাঁধে তুলে নৃত্যের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। পুজো কমিটির এক সদস্য জানান, ১৯৬৯ সালে ঘটপুজোর মাধ্যমে বামাকালীর উৎসবের সূচনা হয়। পরের বছর থেকে থেকে শুরু হয় প্রতিমা গড়ে পুজো। সেই থেকে দেবী ‘যমুনাকালী’ নামে পরিচিত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্ত যমুনা চৌধুরী স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরে পুজোর প্রচলন করেন। পরে দেবীর নামকরণ হয় বামাকালী।
শান্তিপুরের বামাকালী পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল আবাহন থেকে বিসর্জন, কোথাও বিদ্যুতের আলো ব্যবহার করা হয় না। প্রদীপ, মোমবাতি এবং মশালের আলোয় আলোকিত থাকে পুরো চত্বর। কালীপুজোর ঠিক পরদিন নিরঞ্জন যাত্রাকে কেন্দ্র করে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টা বাজনো হয়। হাজার হাজার ভক্তের ঢল নামে রাজপথে। বাঁশের তৈরি বিশেষ মাচায় প্রতিমাকে বসিয়ে কাঁধে তুলে নেন ভক্তেরা। মুক্তকেশী প্রতিমার হাতে খড়্গ, নরমুণ্ড এবং চাঁদমালা থাকে। ওই নিরঞ্জন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর মানুষ ভিড় করেন শান্তিপুরে। সেই কারণেই এ বার বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হল। পুজো কমিটির পক্ষে বর্ণালী চৌধুরী বলেন, “মায়ের নাচ দেখার জন্য বহু দূর থেকে অগুনতি মানুষ আসেন। চোরবাগানে যে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, আমরা চাই না তেমনটা আর কোথাও ঘটুক। তাই প্রশাসন এবং আমাদের পুজো কমিটি যৌথ ভাবে আলোচনা করে জায়গা বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বেজপাড়ার মাঠটি বেশ বড়। তার পাশেও আরও দুটো মাঠ রয়েছে। পুণ্যার্থীরা কোনও রকম হুড়োহুড়ি বা অসুবিধা ছাড়া সুস্থ ভাবে এবং নিরাপদ পরিবেশে মায়ের নাচ উপভোগ করতে পারবেন।”
