কেরলের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দিনই বিতর্কে ওম প্রকাশ মাথুর। তিনি ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে লোকভবনে কোনও রকম আমিষ রান্না করা যাবে না। তাঁর এই নির্দেশ সামনে আসতেই সরব হয়ে উঠেছে শাসকদল কংগ্রেস ও বিরোধী সিপিএম। দুই তরফেই অভিযোগ তোলা হয়েছে, রাজ্যপাল সংঘ পরিবারের এজেন্ডা চাপিয়ে দিচ্ছেন।
শুক্রবারই কেরলের ২৯তম রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিয়েছেন মাথুর। তাঁর শপথের পরপর একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, লোকভবনের রান্নাঘরে কোনও আমিষ পদ রান্না বা পরিবেশন করা যাবে না। বিষয়টি সামনে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, রাজ্যপাল লোকভবনের কর্মীদের খাদ্যাভ্যাসের উপর জোর করে নিষেধাজ্ঞা চাপাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই লোকভবনের তরফে জানানো হয়, মাথুর নিজে নিরামিষাশী। যার জেরেই এই নির্দেশিকা। তবে অন্য কর্মীদের খাদ্যাভাসের উপরে কোনও রকম বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। কর্মীরা চাইলে বাড়ি থেকে খাবার আনতে পারেন। কিংবা বাইরে খেতে পারেন।
রাজ্যপাল নির্দেশ দিয়েছেন, লোকভবনের রান্নাঘরে কোনও আমিষ পদ রান্না বা পরিবেশন করা যাবে না। বিষয়টি সামনে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক।
এর পরই বিষয়টি নিয়ে সরব হন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল। তিনি বলেন, ”কেরলের খাদ্য সংস্কৃতি বৈচিত্র্যময়। উপকূলীয় রাজ্য হিসেবে এখানে মাছ প্রধান খাদ্য। মানুষ কী খাবে, তা তার ব্যক্তিগত অধিকার।” তাঁর অভিযোগ, “এটা সংঘ পরিবারের গেরুয়া এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ। সাংবিধানিক পদে বসে ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস অন্যের ওপর চাপানো যায় না।” সুর চড়িয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালাও। তিনি বলেন, “কী খাব, কী পরব, তা ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়।” সিপিএম রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন বলেন, “ভারতে নিরামিষ ও আমিষ খাওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার আছে। খাদ্যকে সাম্প্রদায়িক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা হচ্ছে।”
