নড়াইলে ভ্যানচালকের বসতবাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->নড়াইলের সদর উপজেলায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনে শিমুল মোল্যা নামের এক ভ্যান চালকের বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়,নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সব মালামাল পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের পাইকমারী গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, পাইকমারী গ্রামের সিদ্দিক মোল্যার ছেলে শিমুল মোল্যার বাড়িতে বৈদ্যুতিক মিটার থেকে শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বসতবাড়ি ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বাঁচলেও ঘরের কোনো মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যানচালক শিমুল মোল্যা বলেন,ভ্যান চালিয়ে যা আয় করি, তা দিয়েই সংসার চলে। ঘরের সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আছি।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে এ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নড়াইল ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শওকাত আলী জোয়ার্দ্দার বলেন, ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঘরের সবকিছু পুড়ে যায়। বৈদ্যুতিক মিটার থেকে শর্টসার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শরিফুল/নাঈম
আরও পড়ুন
পীরগঞ্জ পৌরসভার নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে ২ শ্রমিক নিহত
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ছবি: খবরের কাগজ
-->রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভার নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনশ্রমিক।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আরাজীগঙ্গারামপুর পৌরসভার নির্মাণাধীন ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকরা হলেন- গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আছাদুল হক ও রংপুরের শিহাব। আহতরা হলেন বাবলা মিয়া, লিটন মণ্ডল ও সেলিম মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে ১৩ জন শ্রমিক পৌরসভার নির্মাণাধীন ভবনটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন। বিকেলে হঠাৎ ছাদের অস্থায়ী কাঠামো বা সাটারিং ভেঙে পড়লে কয়েকজন শ্রমিক চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এ সময় ঘটনাস্থলেই আছাদুল হক ও শিহাবের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভিশন ২০২০-এর কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।
দুইজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা নাজমুল সরকার বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। স্থানীয় লোকজন আরও তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।’
এদিকে দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নিহতদের স্বজনরা এ মুহূর্তে স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত অপরাধীরা যাতে ছাড় না পায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সুশান্ত চন্দ্র রায়, সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) মো. রাসেল রানা এবং পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উপস্থিত ছিলেন।
সেলিম সরকার/সালমান/
আরও পড়ুন
কিশোরগঞ্জে ডোপ টেস্ট পজিটিভ হওয়ায় পুলিশ কনস্টেবল বরখাস্ত
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
ছবি:সংগৃহীত
-->মাদকাসক্তি পরীক্ষায় (ডোপ টেস্ট) মাদকের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের চালক কনস্টেবল মো. ওসমান গনিকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুরো বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্য ওসমান গনি ঢাকার ধামরাই উপজেলার সাহাবেলীশ্বর এলাকার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশে ড্রাইভার কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই কনস্টেবল ওসমান গনির অস্বাভাবিক আচরণ ও গতিবিধি নজরে আসে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে বাহিনীর ভাবমূর্তি ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় তার ডোপ টেস্ট করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তার ডোপ টেস্ট করা হয়। পরীক্ষায় তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জেলা পুলিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এ ছাড়া কনস্টেবল ওসমান গনি কী ধরনের মাদক সেবন করতেন, তাসহ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ডোপ টেস্টে পজিটিভ আসায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মাদকের ব্যাপারে জেলা পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স নীতি। পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রেও এ নীতি সমভাবে প্রযোজ্য। এ কারণে আমরা যাদের সন্দেহ করছি, তাদের ডোপ টেস্ট করাচ্ছি।
রাসেল/নাঈম
আরও পড়ুন
মন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় আটক, পুলিশ বলছে ‘আত্মসমর্পণ’!
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
জুবায়ের আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
-->সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ফেসবুকে পাথরমহাল খোলার দাবিতে পোস্ট দেওয়ার দুদিন পর পাথরব্যবসায়ী জুবায়ের আহমদকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির দুই নেতা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে তাকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়। তবে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ উসমান গনি ঘটনাটিকে ‘থানায় আত্মসমর্পণ’ দাবি করে তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের কলাবাড়ি গ্রামের জুবায়ের আহমদ পেশায় একজন পাথর ব্যবসায়ী। শনিবার ফেসবুকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ছবি দিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘১২ তারিখ নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ কিছুই ঠিক হলো না। মন্ত্রী মহোদর আমাদের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতম করে দিলেন।’
ফেসবুকের এই পোস্টের জন্য মঙ্গলবার উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আলী আকবর ও সিনিয়র সহ সভাপতি শওকত আলী বাবুল তাকে থানায় ডেকে এনে পুলিশের কাছে তুলে দেন। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে।
এদিকে, আটকের পর জুবায়েরের ফেসবুক পোস্টটিও আর পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে ধরিয়ে দেওয়া বিএনপির দুই নেতা ‘বিষয়টি পুলিশ দেখছে’ জানিয়ে এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ উসমান গনি বলেন, ‘জুবায়ের আহমদ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। কী কারণে আটক করা হয়েছে, সেটা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’ তাহলে কি আটক করার পর আপনারা সিদ্ধান্ত নেন কী কারণে আটক হবে?- এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে আটক করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আলী আকবর তাকে আত্মসমর্পণ করাতে নিয়ে আসছিলেন।’
ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জন্য ‘আত্মসমর্পণ’ কেন করবে? এমন প্রশ্নে ওসিও পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সেটাইতো! আত্মসমর্পণ কেন করবে? আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসছি। এখনো গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।’
‘১২ তারিখ নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।’ এ কথার জন্য কেন পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে, এটা কি কোনো অপরাধের ভেতরে পড়ে? এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘আইন মোতাবেক আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারি। অপরাধ আছে। এখন এই অপরাধটা সে করেছে কি না, তার মোবাইল কেউ ব্যবহার করছে কি না সেটা যাচাই করছি।’
এদিকে সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জুবায়েরের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। তখন পর্যন্ত তিনি থানায় আটক অবস্থায় ছিলেন।
এসএন/
আরও পড়ুন
শৈলকুপায় অটোভ্যানের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
প্রতীকী ছবি
-->ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহমান নামে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর ত্রিবেণি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের পাকা রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রহমান রামচন্দ্রপুর কাজীপাড়া গ্রামের মো. বাবলু সরদারের ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির পাশে পাকা রাস্তার ওপর খেলাধুলার সময় একটি দ্রুতগামী ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সে পাকা রাস্তায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। উপস্থিত স্থানীয়রা শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুর মরদেহ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় আব্দুর রহমানের পরিবার ও এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আলমগীর/নাঈম
